দেশের শিল্প খাত টিকিয়ে রাখা জরুরি-সাক্ষাৎকারে সোনালী ব্যাংক এমডি

সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান প্রধান বলেছেন, করোনা আতঙ্ক কাটিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে খুলছে। বিশেষ করে শিল্প খাতের উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্বাভাবিক পর্যায়ে না এলেও বিশ্বব্যাপী

প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। বাংলাদেশেও শুরু হয়েছে। শিল্প খাতের এ বিপর্যয়কালে সরকার বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। করোনা প্রাদুর্ভাবের মহামারীতে অর্থনীতি মারাত্মক ধাক্কা খেয়েছে। সে ধাক্কা মোকাবিলায় ব্যাংকগুলোর ভূমিকা জরুরি। এখন ব্যাংকের মুনাফা করার চিন্তা করা উচিত নয়। আমাদের অর্থনীতি টিকিয়ে রাখাই মূল চ্যালেঞ্জ।

রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান। এ ব্যাংকে যোগদানের আগে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকে সাফল্যের সঙ্গে তিন বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। অনলাইন ব্যাংকিং সেবার ক্ষেত্রে রূপালী ব্যাংককে তিনি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

সোনালী ব্যাংকে এসেও তিনি নানা সংস্কারমূলক কাজ শুরু করেছেন। এ করোনা প্রাদুর্ভাবে দেশের ব্যাংকিং আর্থিক খাতের সমস্যা সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাৎকারে আতাউর রহমান বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের সব খাতই সংকটে পড়েছে। আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে দেশের অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রমও এখন প্রায় বন্ধ। এ অবস্থায় স্বাভাবিকভাবে দেশের ব্যাংকিং খাত বড় চাপে রয়েছে।

ব্যাংকিংয়ে মুনাফা কমে যাবে। কিন্তু দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে ব্যাংকের ভূমিকা জরুরি। কোনোভাবেই এখন মুনাফার কথা চিন্তা করা অনুচিত। পুরো অর্থনীতি টিকিয়ে রাখাই হবে আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ। আমাদের ব্যাংকিং পরিকল্পনাও সেভাবে নিয়েছি। তিনি বলেন, শিল্প খাত বা উদ্যোক্তারা যদি টিকে থাকেন ব্যাংকও টিকে থাকবে। আমরা যদি উৎপাদন প্রক্রিয়ায় স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে পারি তাহলে ব্যাংকের মুনাফাও হবে। এ বছর যদি মুনাফা কমও হয় দ্রুতই সেটা পরিবর্তন হয়ে মুনাফা ফিরে আসবে প্রতিটি ব্যাংকে।

সরকার যে প্রণোদনা ঘোষণা করেছে সেটা পুরোটাই ব্যাংক বাস্তবায়ন করছে। এখন ইন্ডাস্ট্রি রক্ষা করা দায়িত্ব। সেভাবে আমরা গাইডলাইন তৈরি করেছি। বাংলাদেশ ব্যাংকও একটি গাইডলাইন দিয়েছে সেগুলো ফলো করে আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি। তিনি আরও বলেন, আমাদের রপ্তানি কমেছে আশঙ্কাজনকভাবে। এটা কোনো গুরুতর সমস্যা নয়। কারণ আমাদের প্রধান রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ।

করোনার কারণের ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান সবকিছু বন্ধ করে দিয়েছিল। আমাদের অর্ডার বাতিল হয়েছে। ফলে অনেকে বন্ধ করে রেখেছে তাদের প্রতিষ্ঠান। অর্ডার বাতিল হওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে। তবে দ্রুত সেটা আবার ঘুরে দাঁড়াবে। ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রে এখন সব খুলছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পুরো ইউরোপের বাজার স্বাভাবিক হয়ে যাবে। তাদের কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে সব ক্রেতাও ফিরে আসবে। আমাদের রপ্তানিও দ্রুত বেড়ে যাবে। রপ্তানি বাড়লে অর্থনীতির সব খাত সচল হয়ে যাবে।
সোনালী ব্যাংকের এমডি বলেন, সামনে জুন ক্লোজিং। ক্লোজিংয়ের সময় সরকারের বড় বড় বিলগুলো ছাড় করা হবে। এর প্রায় সিংহভাগ সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে হয়ে থাকে। ফলে সব বিভাবের কর্মকর্তাদের ডিউটি করতে হয়। স্বাভাবিক অর্থ লেনদেন চলছে। দেশের মানুষের হাতে এখনো টাকা আছে। সরকারও সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে। বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভাতা সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে।

এ অর্থ আমাদের আর্থিক প্রক্রিয়াকে সচল রাখছে। তিনি আরও বলেন, যদিও আমরা একটি রোস্টারিং করেছি। কিন্তু সেটা রক্ষা করা সম্ভব হয় না। কারণ সব বিভাগেই কাজ আছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছি। গ্রাহকদের জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিভিন্ন উপকরণ কার্যালয়ের সামনে রাখা হয়েছে। কিন্তু যে পরিমাণ ভিড় হয় তাতে স্বাস্থ্য নিরাপত্তা মেনে চলাও সম্ভব হচ্ছে না।

আমাদের অনেক কর্মকর্তা আক্রান্ত হয়েছেন। তবু চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করছি। তিনি বলেন, ব্যাংকারদের জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক কর্মীদের সব ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নিয়েছি। কর্মীদের কথা চিন্তা না করে ব্যাংকিং করা যাবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.