অনলাইন ক্লাস শিক্ষার্থীদের রোগী বানিয়ে দেবে,তবুও ক্লাস করতে হবে

জাহাঙ্গীর বাবু:
অনলাইনে জুম ক্লাসের ধুম।বাচ্চা গুলোকে মানসিক রোগী বানিয়ে দেবে অনলাইন ক্লাস।কয়েক বছর পর।কানে ইয়ার পিস,চোখে চশমা,হাঁটার জন্য লাঠি ব্যবাহার হলে অবাক হবেন না কেউ।এর জন্য আমরাই দায়ী।
স্মার্ট ফোন হাতে সকাল, বিকাল,সন্ধ্যা,রাত।খালি পড়া দেবে ওপার থেকে স্যার,এপার থেকে শেখার সুযোগ নেই,মোবাইল ক্লাস শেষ হলে ,বাচ্চাদের মাথায় ব্যাথা,চোখে জ্বালা পোড়া, ব্যাথা,দীর্ঘ ক্ষন বসার কারনে কোমরে ব্যাথা, পা ফোলা নানা সমস্যা,বাচ্চারা না খেয়েও ক্লান্ত হয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দেয়।ঘুমিয়ে পড়ে।
সরকারের সরকারী উদ্যোগে স্কুল,কলেজ থেকে যত না চাপ,  তার চেয়ে বেশী  শিক্ষকরা নিজেরা জুম এপস দিয়ে প্রাইভেট ক্লাস নিচ্ছেন।অনলাইন প্রাইভেট কোচিং এ স্যারেরা শিক্ষার্থী নিয়ে বেশী সচেতন।শিক্ষার্থী বাবা দর্শক,মা যত পারে স্যারদের অনুরোধ করে আমার বাচ্চাটাকে নিন স্যার। অবশ্য শিক্ষার্থীরা নিজেরাই এখন স্যারদের কাছ থেকে স্যারের আইডি নিয়ে  পাসওয়ার্ড যুক্ত হচ্ছে।অন্য বন্ধুদের যুক্ত করছে। এক ছাত্রের কোন সহপাঠি ভর্তি হলে অন্য জন ও ভর্তি হচ্ছে,কারণ সে এগিয়ে যাবে।ও সব শিখে ফেলল।
করোনায় শুধু মাস্ক পরা শেখায়নি,শুধু হাত ধোয়া শেখায়নি, বাচ্চাদের আর শিক্ষকদের অনলাইনে নিয়ে এসেছে।
আমি অবাক হয়ে যাই এক বিষয় একটানা তিন ঘন্টা কি করে  পড়ান শিক্ষক।
আবার ইউটিউব, ফেসবুকে আপলোডেড ক্লাস ও দেখছে শিক্ষার্থীরা ক্লাসের পর।আগে শুধু টেন মিনিট স্কুল দেখলেও এখন লোকাল স্যারদের আপলোডেড ক্লাস দেখছে। মোবাইলের ছোট পর্দায় চোখ যাবে,কানের এয়ার ফোনের আওয়াজে শ্রবণ শক্তি লোপ পাবে।কানে ব্যাথা হবে।চোখ, কানে,কোমরে নানা রোগ দেখা দিবে।
শিক্ষকদের পালটাপাল্টি ক্লাস,একের পর  এক ক্লাস, ৮ থেকে ১২ ঘন্টা মোবাইলে চোখ,কানে এয়ার ফোন রাখতে বাধ্য হচ্ছে। একের অধিক ভাই বোন ফোনে ক্লাস করলে উচ্চ শব্দে ক্লাস করার জো নেই।
করোনায় বিশ্ব ঘর বন্ধী থাকার কথা,কেউ মানলো,আর কেউ তাদের আক্রান্ত করলো।করোনা কাল কতো দিন চলবে কে জানে? আমাদের স্বাস্থ্য ব্যাবস্তাকে উমুক্ত করে দেখালো আর শিক্ষা ব্যবাস্থাকে করলো পঙু,অর্থনীতির কথা নাই বা বললাম।আমি অভিভাবক,উদ্বিগ্ন সন্তান নিয়ে।বাকী সব চিন্তার বুদ্ধিজীবি এ দেশে ভুরি,ভুরি।
চিন্তা, আসলে যদি বেঁচে থাকি তাহলে বাচ্চাদের কি হবে?আমার কি হবে,পরিবারের কি হবে? শিক্ষা মন্ত্রী বলেছেন, আগে বাঁচি,ঘরের মায়েরা বলেন,আগে সিলেবাস,স্যারেরা অনলাই নে কোচিং খুলে বলেন, যার ইচ্ছা আসো।শিক্ষার্থী ভাবছে,সহপাঠি ক্লাস করে এগিয়ে গেলো।মা ভাবছে পিছিয়ে গেলো,আমি ভাবছি,বাচ্চাটার চোখ,কান,শরীর সব গেলো।
অনলাইন ক্লাস শিক্ষার্থীদের রোগী বানিয়ে দেবে,তবুও ক্লাস করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.