জামালপুরে ২৪ ঘণ্টায় বন্যায় একদিনে শিশুসহ ৪ জনের মৃত্যু

জামালপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় বন্যার পানিতে ডুবে ও বন্যার পানিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া চলতি বন্যায় জেলার বিভিন্ন স্থানে এ পর্যন্ত পানিতে ডুবে শিশুসহ ৯ জন এবং সাপের কামড়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে আজ শুক্রবার যমুনা নদীর পানি অনেকটা কমে এলেও এখনো বিপৎসীমার ৭৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় যমুনা তীরবর্তী ৫টি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির কোন উন্নতি হয়নি।

ব্রহ্মপুত্র, জিঞ্জিরাম, ঝিনাই নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় জামালপুর সদর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ব্যাপক বন্যা দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিনের বন্যায় সারা জেলায় প্রায় চার লাখ মানুষ পানিবন্দি দুর্ভোগে রয়েছে।

সূত্র জানায়, আজ শুক্রবার জেলার বিভিন্নস্থানে বন্যার পানিতে ডুবে শিশুসহ দুজন এবং বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া সেচপাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মাদারগঞ্জ উপজেলার আমলিতলা গ্রামে বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া সেচপাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে এখলাছ (২৫) ও আরিফ (২৪) নামের দুই যুবক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয়।

পরে তাদেরকে মাদারগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন। অপরদিকে জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার পৌর এলাকার কাগমারী গ্রামে বন্যার পানিতে ডুবে জিসান নামের তিন বছর বয়সের একশিশু নিখোঁজ হলে পরে তাকে মৃত উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া মাদারগঞ্জ উপজেলার জোড়খালী ইউনিয়নের বেড়া গ্রামে পাট কাটতে গিয়ে বন্যার পাড়িতে ডুবে কমল মিয়া (৫০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যমুনা নদীর পানি কিছুটা কমলেও এখনো বিপৎসীমার ৭৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। ফলে যমুনা তীরবর্তী দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, মাদারগঞ্জ, সরিষাবাড়ী ও মেলান্দহের আংশিক এলাকায় নতুন কোন এলাকা প্লাবিত হয়নি।

জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। নলকূপগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় খাবার পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পৌরসভার মেয়র ও ইউপি চেয়ারম্যানদের উদ্যোগে বন্যাদুর্গতদের মাঝে সরকারি বরাদ্দের চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম জানান, চলতি বন্যায় এ পর্যন্ত জেলার সাতটি উপজেলায় ১৩ হাজার ৩৪৩ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. নায়েব আলী জানান, বন্যায় এ পর্যন্ত জামালপুর জেলার সাতটি উপজেলার ৩১৯টি গ্রামের ৮৫ হাজার ১৯৭টি পরিবারের তিন লাখ ৫৯ হাজার ৪২ জন মানুষ পানিবন্দি হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

২২০টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ এবং পাঁচ হাজার ৯৮৭টি ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোয় বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা হিসেবে এ পর্যন্ত নগদ ১১ লাখ টাকা ও ৪৩৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.