দেশের ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য’দের আকুতি

মোঃ মাইদুল ইসলাম, বুলেটঃ
বাংলাদেশে’র প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ হলো স্থানীয় সরকার আদালত। যেখানে জনগনে’র ভোটে নির্বাচিত হয় এক জন চেয়ারম্যান, ৯ জন সদস্য ও ৩ জন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মোট ১৩ জন নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ বা স্থানীয় আদালত গঠিত হয়।
প্রত্যেকে’ই জনগনে’র ভোটে নির্বাচিত হয়ে থাকেন।একজন চেয়ারম্যান’রা ৯ টি ওয়ার্ডের ভোটে, সদস্য’রা ১ টি ওয়ার্ডের ভোটে এবং মহিলা সদস্য’রা ৩ টি ওয়ার্ডের ভোটার’দের ভোটে’র মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে থাকেন। কিন্তু, মহিলা সদস্য’রা ৩ টি ওয়ার্ডে’র জনগনে’র ভোটে নির্বাচিত হলেও তারা সদস্য’দের তুলনায় কম কিংবা সমমান বরাদ্দ পেয়ে থাকেন কিন্তু কেন?
ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য’রা ১টি ওয়ার্ডে’র জনগনে’র ভোটে নির্বাচিত হয়ে ১ টি ওয়ার্ডের জন্য – যে কোন রিলিফ, দুঃস্থ মাতা, বয়ষ্ক ভাতা, পঙ্গু ভাতা, বিধবা ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা ইত্যাদি ইত্যাদি ক্ষেত্রে যে অংশ বা নাম সংখ্যা পেয়ে থাকেন ঠিক তদ্রূপ সংরক্ষিত মহিলা সদস্য’রাও সেই পরিমান বরাদ্দ পেয়ে থাকেন। এটা কি আসলে’ই ইউনিয়ন পরিষদের গঠনতন্ত্রের মধ্যে!
এমনকি ইউনিয়ন পরিষদে’র সকল সদস্যে’র জন্য (পুরুষ ও মহিলা) প্রতি বছর ১ টি করে এলজিএসপি’র কাজের বরাদ্দ সরকার থেকে দেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু, যেখানে সদস্য’রা ১ টি ওয়ার্ডে ৫ বছরে ৫ টি এলজিএসপি’র কাজ করে তাহলে সংরক্ষিত সদস্য’রা তাদের ৩ টি ওয়ার্ডে নুন্যতম ১৫ টি এলজিএসপি’র কাজ করা দরকার।
যেখানে পুরুষ সদস্য’দের তুলনায় তিনগুন ভোটারে’র ভোটে এবং ৩ টি ওয়ার্ডে তাদের নির্বাচনী এলাকা। যদিও সরকারীভাবে ইউনিয়ন পরিষদে’র সংরক্ষিত মহিলা সদস্যে’র জন্য বাৎসরিক ১ টি করে এলজিএসপি’র কাজের বরাদ্দ থাকলেও কোন কোন ইউনিয়ন পরিষদে মহিলা সদস্যরা সেই এলজিএসপি’র কাজ থেকেও বঞ্চিত হয়ে থাকে।
এছাড়াও, সরকারি ভাবে যে সম্মানী ভাতা পান সেটাও তাদের সমান কিন্তু কেন এমন বৈষম্য? এমন বৈষম্য সমস্যা’র সমাধান হওয়া দরকার।
আর ইউনিয়ন পরিষদে’র সদস্যদের যে সম্মানী দেওয়া হয় তা সরকারীভাবে ৪৫% আর ইউনিয়ন পরিষদে’র আয় থেকে ৫৫% দেওয়ার নিয়ম থাকলেও সদস্য’রা শুধুমাত্র সরকারি অংশটুকু পেয়ে থাকে। তাই ইউনিয়ন পরিষদে’র আয় সরকারে’র কোষাধ্যক্ষে জমা নিয়ে সদস্য’দের সম্মানীভাতা সম্পূর্ণ সরকারি তহবিল থেকে বিতরন করা হলে সদস্য’রা তাদের নিজের প্রাপ্য সম্মানী ভাতা বুঝিয়ে পাবে।
কারন, ইউনিয়ন পরিষদে’র আয় কখনো সদস্য”রা কিংবা সাধারণ জনগন জানতে পারে না তা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। সারা বাংলাদেশে’র হাতে গনা কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান’রা বাৎসরিক উম্মুক্ত বাজেট ঘোষণা করেন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারে’র মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র কাছে আমার দাবী এমন বৈষম্য সমস্যার সমাধান করা হোক।
কারন, যেখানে সদস্য’দের তুলনায় তিনগুন জনগনে’র ভোটে মহিলা সদস্য’রা নির্বাচিত হন এবং তিনগুন জনগন’কে খুশি করে দায়িত্ব পালন করা লাগে। সংরক্ষিত মহিলা সদস্য’রা কোনভাবে’ই ভোটার’দের মন জয় করতে পারে না শুধুমাত্র এমন বৈষম্য সমস্যা’র কারনে! কিন্তু, যেখানে একজন সদস্য যা পায় তা দিয়ে একটা ওয়ার্ডে’র জনগন’কে খুশী করা দুষ্কর হয়ে যায় সেখানে মহিলা সদস্য’রা কিভাবে সেই পরিমান দিয়ে ৩ টি ওয়ার্ডে’র জনগন’কে খুশি করানো সম্ভব? আদৌও সম্ভব নয়! এমন বৈষম্যে’র কারনে মহিলা সদস্য’রা ভোটার’দের কাছে সম্মানে’র চেয়ে বেশী অসম্মানিত হয়ে যায়।
আর, এ সব কারণে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মহিলা প্রার্থী হওয়া থেকে অনেকে’ই আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। তাই, ইউনিয়ন পরিষদে’র সংরক্ষিত মহিলা সদস্য’দের জন্য প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে বসার জন্য আলাদা আলাদাভাবে অফিস রুম সহ সকল বিষয়ে সদস্য’দের তুলনায় তিনগুন বৃদ্ধির দাবী জানাচ্ছি।
এছাড়াও, গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র প্রতি আমার আহবান, ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য’দের যা সম্মানী ভাতা প্রদান করা হয় সেটাও সদস্য’দের তুলনায় বৃদ্ধি করা হোক। এমন বৈষম্য থাকলে ধীরে ধীরে নারী’রা ইউনিয়ন পরিষদে’র সংরক্ষিত মহিলা সদস্যে’র নির্বাচনে অংশগ্রহন করা থেকে মূখ ফিরাবে। যেহেতু ইউনিয়ন পরিষদ হলো একটি স্থানীয় আদালত আর সংরক্ষিত মহিলা সদস্যে’র এ দাবীগুলো সম্পুর্ন যৌক্তিক দাবী।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে, হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়ন পরিষদে’র মহিলা সদস্য মোছাঃ মাজেদা বেগম বলেন, আমি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারে’র মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাদার অব হিউম্যানিটি, বঙ্গকন্যা- জননেত্রী শেখ হাসিনা’র কাছে আমার অনুরোধ, পরবর্তী নির্বাচনে ইউনিয়ন পরিষদে’র সংরক্ষিত মহিলা সদস্য’দের জন্য তাদের এ যৌক্তিক দাবীগুলো মেনে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ অবকাঠামোর এ বৈষম্য সমস্যার দূরীকরণ করবেন।
এছাড়াও কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদে’র সদস্য’দের সাথে কথা বললে তারা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে’র আয় থেকে ৫৫% ভাতা প্রদানের নিয়ম থাকলেও আজো পর্যন্ত কেউ সেই সম্মানী পায় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.