খন্ড কালীন চাকরী নামের সোনার হরিণ

জাহাঙ্গীর বাবু:
খন্ড কালীন চাকরী নামের সোনার হরিণ .এ সি আই কোম্পানীতে এক বছর পূর্তি ও তার পূর্বের কাজের তালেশের নির্মম অধ্যায়! সৌদি আরবের ১১ বছরের পর,সিঙ্গাপুরের ১১ বছরের শেষের দিকে ২০১৮ সালের ২৬ জুলাই ছুটিতে এসেছিলাম দেশে, সেই ছুটির পর, যাই,যাচ্ছি,যাবো,আর যাওয়া হলো না,অসবশ্য সম্ভাবনা ছিলো কম, বাবা ছিলেন অসুস্থ্য,আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সুযোগ করে দিলেন বাবাকে নিয়ে সেনবাগ,ফেনী,মাইজদী,ঢাকার হাসপাতালে যাবার।
তারপর বন্ধুর সুবাদে তার আর তার পার্টনারের সাথে মাস দেড়েক কাজের সুযোগ গাজীপুরে,তাদের অফিস সাজিয়েছিলাম নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে,আব্বাকে হারালাম ২৩ এপ্রিল ২০১৯,সেই কোম্পানীতে দু মাসেই ইতি।
বেকার, হাতটান, অনেক ইন্টারভিউ দিলাম দেশের অনেক কোম্পানীতে।বড়ই বিব্রতকর সে সময়ের ইন্টারভিউর সময় গুলো, নিজের অভিজ্ঞতা তখন নিজের কাছে বোঝা মনে হতে লাগলো।
দেশের বিশিষ্ট সি আই পি নিজের গ্রামের, দুবার সেখানে নিয়ে গেলেন বন্ধু সাংবাদিক সাহেব, সিঙ্গাপুরের ব্যাবসায়ী জাহাঙ্গীর ভাইয়ের কাছে সুবিধা নেয়া নিজ জেলার বিশাল ঠিকাদারের কাছে যাওয়া হলো,জাহাঙ্গীর ভাই সিঙ্গাপুর থেকে তিনবার ফোন দিয়েছিলেন, নাহ কোন কাজ হয়নি,মেট্রো রেইলের উত্তরায় ইন্টারভিউ বোর্ডে আমার অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট দেখে আর ডাকেনি অফিসে,চা দোকান থেকে ফেরত!সিঙ্গাপুরের মহসীন ভাইয়ের ভাইয়ের কাছে দুবার চাকরীর আশায়,বন্ধু আশরাফের কোম্পানীতে সিভি সবমিট একবেলা আহার,বৌএর বড় ভাইয়ের ছাত্রের কোম্পানীতে ইন্টারভিউ।
সিঙ্গাপুরের বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী বন্ধু, কবির ভাই, যিনি করোনা কালীন সময়ে প্রবাসীদের সেবা করার জন্যে সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট পদক ২০২০ এর তালিকায় এসেছেন,হঠাৎ ৩০ আগষ্ট ২০১৯ তিনি নিজ থেকে ফোন করে সিঙ্গাপুরের সাবেক বিডিচ্যাম সভাপতি সবুর ভাইয়ের বাংলাদেশের কোম্পানীতে কাজ দিলেন, টেরা ফার্মা ম্যাজিক সিমেন্টের মার্কেটিং এর। ২৪ দিন ছিলাম সেথায়।
এর মাঝে আমার ঘনিষ্ট বন্ধু সিঙ্গাপুরে বর্তমানেও আছেন, আমার সুখ দুঃখের সাথী ভাইদের একজন মেজাবাহ ভাইয়ের বন্ধু আলমগীর, যার সাথে ক্যানাডা যাবার প্রস্তুতিতে মিরপুর শাহ আলী মার্কেটে অর্থ দন্ডের অংশীদার আমি, তার বস এস ডি এ কন্সালেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং এর মালিক ও কন্সালটেন্ট অচিন্ত্য স্যারের কাছে ইন্টারভিউর মাধমে আমার বর্তমান স্যার, টিডি,সিবি এ সি আই লিমিটেড এর এক জন পরিচালক,অল ইন অল এ সি আই সল্ট লিঃ, আহসান মোহাম্মদ হাবিব স্যারের কাছে ইন্টারভিউর সুযোগ হয়।
স্যার, শুধু জানতে চেয়েছেন,কি কি কাজ করেছেন, কাজ পেলে থাকবেনতো,মাত্র ছয় মাসের চাকরী। চা আপ্যায়ন, আর বললেন জানাবেন পরে,২০ সেপ্টেম্বর ২০২০,কোন সার্টিফিকেট, একাডেমিক আর অভিজ্ঞতার কিছুই দেখলেন না।
২৩ তারিখ ২০১৯, মাথায় কাজ করে খুব কম,টেনশন,মোবাইল বন্ধ করে সকাল ১১ টায় শুয়েছিলাম।মাইজদীর বসায়,দুই টায় বৌ স্কুল থেকে এসে বলল,তোমার মোবাইল বন্ধ কেন? আলমগীর আমার বন্ধু লিটনকে ফোন দিয়েছে, লিটন আমার বৌকে ফোন দিয়েছে আলমগীর, অচিন্ত্য স্যারের কোম্পানীর ইঞ্জিনিয়ার, তাকে ফোন দিলাম, সে দিলো ঝাড়ি,হ্যা,চাকরী পাননা,এখন চাকরী দিলাম,প্রথম দিন ডাইরেক্টর স্যার আপনাকে পাননি।কি চাকরী করবেন,স্যারকে কল দিন,দিলাম,স্যার বললেন,কাল এ সি আই সল্টের এডমিনের এই নাম্বারে যোগাযোগ করে অফিসে যাবেন।
ব্যাস, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ জয়েন,২২ বছর প্রবাস জীবনের পর প্রথম চাকরী বাংলাদেশের কোন কোম্পানীতে ৬ মাসের চুক্তিতে। সব কিছু নিয়মতান্ত্রিক। তাদের অফিসের ব্যাবহার,আমাকে সন্মান প্রদর্শন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।কারন,এক বছরের এর বেশি সময়,অসভ্য ইতরদের কাছেই ইন্টার ভিউ দিয়েছি।তাদের প্রশ্ন গুলোতে কতো লজ্জা পেয়েছি।ঘন্টার ঘন্টা বসে থেকে ফেরত এসেছি, অথচ, এ সি আই এ এসে মনে হলো আছি কোন বিদেশের কোম্পানীতে।
২৬ তারিখে স্যার দিয়ে দিলেন দায়িত্ব আর কাজের স্বাধীনতা।সমবয়সী একই ব্যাচের ঢাকা পলিটেকনিক এর এক জন ইমিডিয়েট সিনিয়র।তরুন স্যার। চাইনীজ ড্রয়িং এ নির্ধারিত সময়ে এর সাথে আপদ কালীন সময়,সেই সাথে করোনা আক্রমন,তার পর ও সাকসেস ফুল কম্পলিশন,এক প্রজেক্টের।
মার্চে ২০২০ আমার স্যার আরো এগারো মাসের এক্সটেনশনের সুযোগ করে দিলেন, বিনিময় মুল্যে সন্মান জনক উন্নতি, রিকন্ট্রাক্টে হয়ে গেলো। সব স্যারের অবদান আর আমার নিরলস পরিশ্রম,আল্লাহর রহমত, মরহুম বাবার দোয়া,আমার সন্তানদের দোয়া,আমার স্ত্রীর তাহাজ্জুদ,আমার মায়ের অকুন্ঠ মমতার আচলে আল্লাহর দরবারের ফরিয়াদ।
এখন,সাইট ইনচার্জ,ইঞ্জিনিয়ার,সুপারভাইজার,সেফটি পারসোনাল,এডমিন,সিকিউরিটি ইনচার্জ একাই সব দায়িত্ব।আল্লাহ রহমত আর আমার টিডি সিবি স্যার সাহস,বিশ্বাস।তিনি এ সি আই সল্টে ওয়ার্ক সাইট সেফটির উপর কয়েকটি ক্লাস নেয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন, সারা বাংলাদেশের এ সি আই লিমিটেড এর ১৯ টি ফ্যাক্টরী প্লান্ট প্রধানদের নিয়ে সেফটি সেমিনারে ১৫ মিনিটের একটা প্রজেন্টেশনের ও সুযোগ করে দিয়েছিলেন।
স্যারের সাথে যারা কাজ করেন সবাই তার উপর সন্তূষ্ট শতভাগ।আমার জাজমেন্ট, কারন আমার থাকার জায়গা ১০ মাস অফিসের উপর রেষ্ট হাউজেই ব্যাবস্থা করে দিয়েছিলেন।
আজ এক বছর পুরণ হলো।আজো অভ্যাস গত ভাবে দিন রাত ডুবে থাকি কাজে।ভুলে যাই মোহ মায়া, সংসার। ধর্মের পর কর্ম বড় বরাবর। অনেক বন্ধুরা কোটি পতি,আমি খন্ডকালীন চাকরী পতি। এতো বৎসর বিদেশ করে বুড়ো বয়সে কেন চাকরী,সে ইতিহাস থাক গোপন। সৎ চাকরী,মধ্যম চাকরী,পেটে ভাতে,হা ভাতে নিয়ন্ত্রণহীন,অপরিকল্পিত জীবন, কতো কথা হতে পারে। ২০১৮ সালের আগষ্ট থেকে ২০১৯ এর সেপ্টেম্বর আমার বেশ কয়েকজন বন্ধু পাশে দাঁড়িয়েছিলো।সবার কাছে কৃতজ্ঞ।
চাকরী আর হবেনা ভেবেই নিয়েছিলাম, কত নিন্ম চাকরী আর কাজের কথা ভেবেছি,বাবা বেঁচে থাকতে বাবা,মা আর আমার স্ত্রী যে ভাবে আমাকে সাপোর্ট দিয়েছে এমনকি আমার দুই কন্যা, প্রতি মুহুর্ত সাহস দিতো।বড় মেয়ে বলতো যাও দোয়া করে দিলাম,তোমার জন্য ভালো কিছু অপেক্ষা করছে।
আলহামদুলিল্লাহ। আস্থা ফিরে আসছে। তার কারন, কাজের সুযোগ।সে সুযোগটা সে দিন যদি টিডি স্যার না দিতেন আজ আমার অভিজ্ঞতা গুলো ডুবে যেতো হতাশার অতল গহীনে।
নামাজের সিজদাহর চাওয়ার চেয়েও যেন আল্লাহ বেশি দিয়েছেন।হোক খন্ডকালীন।তবুও একটা কাজ আছেতো,ইতিমধ্যে আমার মাধ্যমে কয়েক জনের কাজের সুযোগ,পদন্নোতি ও হয়েছে।
দেখতে দেখতে একবছর পার হয়ে গেলো,এ সি আই সল্টের প্রত্যেক অফিসার,সহকর্মীর কাছে কৃতজ্ঞ,কৃতজ্ঞতার হকদান ঠিকাদার উদয়ন ইঞ্জিনিয়ারিং, তাদের সহযোগীতায় কর্মক্ষেত্র নিরাপদ রাখা অদ্যাবধি সম্ভব হয়েছে, এ সি আই কমার্শিয়াল সরোয়ার ভাই,সৌরভ নন্দী,কাজী নুরআলম ভাই বাদ যাবে কেন কৃতজ্ঞতার তালিকা থেকে।
কাল কি হবে জানিনা।এ সি আই লিমিটেড ,এ সি আই করো বাংলাদেশ লিঃ জুস ফ্যাক্টরীর কর্ম সময়, কর্ম জীবনের ইতিহাসে অনন্য ইতিহাস হয়ে থাকবে।
তারপর , লিখবো আবার ,এগারো মাসের চুক্তির মেয়াদ শেষ হবার পর।
২৪-৯-২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published.