প্রতীকী লাশ নিয়ে রংপুরে হানিফ বাংলাদেশী

আপেল মাহমুদ, স্টাফ রিপোর্টার:

সীমান্তে হত্যা বন্ধের দাবীতে প্রতীকী লাশ নিয়ে ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে কুড়িগ্রামের অনন্তপুর সীমান্ত অভিমুখে একক পদযাত্রা শুরুর আজ ১৬তম দিনে রংপুরের শঠিবাড়ী থেকে রংপুর নগরীর মডার্ন মোড় পৌঁছেছেন হানিফ বাংলাদেশী।

এসময় তার পদযাত্রার সাথে সংহতি জানিয়েছেন রাষ্ট্রচিন্তা রংপুরের আহ্বায়ক রায়হান কবির, ছিনু কবির, আহম্মেদ বাবু, ইমরান কবির, আসাদুল্লাহ, রাসেল মাহমুদ, লিপি দেব গুপ্তাসহ অন্যান্যরা। আগামীকাল সকাল ৮ টায় মডার্ন মোড় থেকে তিনি আবারো পদযাত্রা শুরু করবেন।

জানা যায় গত ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকাল ১০ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একক পদযাত্রা শুরু করেন হানিফ বাংলাদেশী।

পদযাত্রা সম্পর্কে হানিফ বাংলাদেশী বলেন, বাংলাদেশ-ভারত প্রতিবেশি ও বন্ধুপ্রতীম দেশ। আমরা চাই ভারত প্রতিবেশির সাথে মানবিক আচরণ করুক। কিন্তু প্রতিনিয়তই ভারতের বিএসএফ নিরীহ বাংলাদেশীদের হত্যা করে চলছে। হতে পারে তারা গরু চোর-চোরাকারবারি, এদের আইনের আওতায় বিচার করা হোক। যখন যে দল রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসে তারা দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার জন্যে ভারতে তোষামোদী ছাড়া জনগণের জানমাল ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করেনি।

গত ১২ বছরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে, এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভুখণ্ডের অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশ করে প্রায় ৫০০ জন বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে বিএসএফ। এবং ১৯৯৬ সাল থেকে ২৫ বছরে ১২৬৩ জনকে হত্যা করা হয়েছে।

স্বাধীনতার পর গত ৫০ বছরে প্রায় ৩ হাজার বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে বিএসএফ। শাসক দলগুলোর দুর্বল ও নতজানু পররাষ্ট্রনীতি এবং ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার হীনস্বার্থে ভারত তোষণ নীতির কারণে বিএসএফ ধারাবাহিক হত্যাকা- চালিয়ে যেতে পারছে। অথচ আমরা দেখেছি অপেক্ষাকৃত ছোটদেশ নেপালের একজন নাগরিককে হত্যা করার পর নেপালের জনগণ ও সরকারের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছিল ভারত।

তিনি বলেন, “আমরা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়ে দিতে চাই, অবিলম্বে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশের নাগরিকদের হত্যা বন্ধ করতে হবে। বহুমাত্রিক কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে ভারতের সাথে বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিবেশীর সম্পর্ক নিশ্চিত করতে হবে।”

এফ.আর/রংপুর টাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published.