ডিসিকে ফোন করে পাকা বাড়ি পেল তিস্তা পাড়ের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সাজু

লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক ডিসিকে মোবাইলে ফোন করে দৃষ্টি প্রতীবন্ধী ও অসহায় অবস্থার কথা বলে ‘জমি আছে ঘর নেই’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ প্রকল্পের মাধ্যমে পাকা ঘর তৈরি করে চান দৃষ্টি প্রতীবন্ধী সাজু মিয়া (২০)।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফরের প্রতিশ্রুতিতে হাতীবান্ধা উপজেলা প্রশাসনকে আবেদনের পর ডিসি নিদের্শে উপজেলা প্রশাসন ওই দৃষ্টি প্রতিবন্ধীকে বসত বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, তিস্তা নদীর তীর ঘেসে দুই কক্ষ বিশিষ্ট পাকা বাড়ি নির্মাণ হচ্ছে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সাজু মিয়ার। বাড়ি পেয়ে খুশি পরিবারের সকলেই। তার মা ছেলেমা বেগম (৪৭) বলেন, আল্লাহ এবার হামাক মুখ তুলি দেখছে। পাকা ঘরত থাকির পামো। ছোয়া (ছেলে) দুইটার একটা কাজ থাকলে আর হামাক কামলা (দিনমজুর) দিয়া খাইতে হইতো না।

দৃষ্টিপ্রতীবন্ধী সাজুর বড়ভাই দৃষ্টি প্রতীবন্ধী শাহিন বলেন, আমার ছোট ভাই যে ভাবে পাকা ঘর পাইছে আমিও ঘর পেতে চাই। আমিও প্রতীবন্ধী আমার স্ত্রীও প্রতীবন্ধী আমার এক সন্তান আছে। আমি সরকারের কাছে একটা কর্ম চাই এটাই আমার দাবী।

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তার্তীরের উত্তর সির্ন্দুনা গ্রামের দিনমজুর নুর ইসলামের দুই ছেলে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সাজু মিয়া (২০) ও শাহিন মিয়া (৩০)। একই পরিবারের শাহিন মিয়ার স্ত্রীসহ তিনজনেই প্রতিবন্ধী। জন্মের পরে থেকে দুই ভাই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। পরিবারে তিন ভাই,বাবা মা ও স্ত্রীসহ সাত জনের সংসার।

তাঁদের বাবা নুর ইসলাম একজন পেশায় দিনমজুর। নিজের জমি বলতে নদীতে সব জমি বিলিন হয়ে মাত্র ১৫ শত জমির উপর তাদের বসতবাড়ি। দিনমজুরী ও অন্যের জমি চাষ করেন কোন মতেই অতিকষ্টে সংসার চলে তাদের। মা ছালেমা বেগম গৃহিণী। দৃষ্টি প্রতীবন্ধী সাজু মিয়া (২০) ও শাহিন মিয়া (৩০) প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী। তারপরেও অতি কষ্টে চলছে তাদের সংসার। দিনমজুরী আর ভাতার সামান্য টাকা দিয়েই কোনরকমে কাটছে দিনরাত।

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সাজু মিয়া বলেন, অনেক দিন মেম্বার চেয়ারম্যানদের বাড়ি বাড়ি ঘুরেও সরকারী ঘর পাইনি। প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থার মুক্তা আপার মাধ্যমে ডিসি স্যার আমাদের ঘর করে দেয়ার আশ্বাস দেয়। ডিসি স্যার আমাদের একটা পাকা বাড়ি উপহার দিয়েছেন এজন্য স্যারে কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। আমারা দুই ভাই বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়েছি যদি কেউ একটা কাজ দিত তাহলে আমরা কর্মকরে খাইতাম।

প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষক ও গবেষক রুকশাহানারা সুলতানা মুক্তা বলেন, আমার প্রতিষ্ঠিত সার পুকুর প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থা জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সহযোগিতা নিয়ে জেলার প্রতিবদ্ধীদের পুনঃবাসনে কাজ করছি। দৃষ্টি প্রতীবন্ধী শাহিন ও সাজু মুদির দোকান ও গাভী পালনে প্রশিক্ষন নিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন সহযোগিতা করলে তাদের পুনঃবাসন করা সম্ভব।

হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা(পিআইও) ফেরদৌস আহম্মেদ বলেন, জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নিদের্শে তিস্তাপাড়ের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সাজুর বাড়ির দ্রুত নিমার্ণকাজ চলছে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, দেশে কেউ গৃহহীন থাকবে না বলে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সাজুর ফোন পেয়ে উপজেলা প্রশাসনকে তদন্ত করে পাকা বাড়ি নির্মাণের নিদের্শ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.