তিস্তার চরে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন, লাভবান হচ্ছে চাষীরা

লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

চলতি রবি মৌসুমে লালমনিরহাটের তিস্তা নদীর জেগে ওঠা ধু-ধু বালু চরে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে । কয়েক দফা বন্যার পর কৃষকরা বালু মাটিতে পেঁয়াজের বীজ লাগানোর শুরু করেন। পেয়াজের বাম্পার ফলনে  লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিস্তা চরের চাষীরা।

জানা গেছে, গত বছর পেয়াজের সংকট এবং দাম বেশি হওয়ায় এসব চর এলাকায় চাষীকুল অন্যান্য ফসলের চেয়ে পেঁয়াজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় গম তামাক চাষ না করে এবারে চরে শুধু পেঁয়াজ চাষে ঝুকে পড়েছে চাষীরা।

সরেজমিনে তিস্তার চর সিন্দুর্না, চর ধুবনী, গড্ডিমারী, ছয়ানী, দোয়ানী, বাঘের চর, পাটিকাপাড়া চর, লোহানী চর, শোলমারীর চর, দহগ্রামের তাঁতী পাড়ার চর এলাকা ঘুরে প্রতিয়মান হয়েছে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন। এসব চর এলাকার কৃষক বন্যায় রোপা আমন চাষে ক্ষতিগ্রস্থ হলেও পেঁয়াজ চাষে সফলতার স্বপ্ন দেখছে।

শেখ সুন্দর চরের পেঁয়াজ চাষী আব্দুল্লাহ জানান, আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় পেঁয়াজ ক্ষেতে কোন আপদ দেখা যায়নি। পেঁয়াজ ঘরে তোলা সময় পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে রোপা আমনের ক্ষতি পেঁয়াজ দিয়ে পুসিয়ে নেওয়া যাবে।

চর সিন্দুর্নার পেঁয়াজ চাষী আনোয়ার হোসেন বলেন, বর্তমানে কাচাঁ পেঁয়াজ বাজার বাজারে ৪০ টাকা থেকে ৪৫ টাকা বিক্রিয় করছি। এ মন দাম পেলে চাষীরা আগামীতে পেঁয়াজ চাষে আগ্রহী হবে।

হাতীবান্ধা উপজেলার কৃষি সম্প্রসারনে কৃষি কর্মকর্তা ওমর ফারুক জানায়, অন্যান্য বছরের তুলনায় চলতি বছরে এ উপজেলায় ২৮০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। গত বছরে বাজারের পেঁয়াজের তীব্র সংকট এবং মুল্য বৃদ্দি হওয়ায় সরকার উৎপাদন বৃদ্দির লক্ষে চাষীদের কে বিনা মুল্যে পেঁয়াজের বীজ ও সহয়তা দিয়েছে।

চাষীরা অন্যান্য ফসলের তুলনায় পেঁয়াজ চাষে বেশী আগ্রহী হয়ে উঠছে। তিনি আশা করেন এবারে পেঁয়াজ চাষ ও বাম্পার ফলনে উৎপাদিত পেঁয়াজ দিয়ে দেশের চাহিদা পুরন করতে সক্ষম হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.