এতিম রিতুর বিয়ের মধ্য দিয়ে নববর্ষ বরণ করলো ফজিলা-কালাম ফাউন্ডেশন

মমিনুল ইসলাম রিপন রংপুর:

হতদরিদ্র প্রতিবন্ধী মায়ের কন্যা পিতৃহারা রিতুকে ধুমধামের সাথে বিয়ে দিয়ে ২০২০ সাল বিদায় জানিয়ে নববর্ষ ২০২১ সালকে বরণ করলো সামাজিক সংগঠন ফজিলা কালাম ফাউন্ডেশন।

৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর নগরীর রঘু বাজার ৩৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ে আলোক সজ্জায় জমকালো এ বিয়ের অনুষ্ঠান শুরু হয়। আমন্ত্রণ জানানো হয়, সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানসহ সমাজের সর্বস্তরের সুধী সমাজের নেতৃবৃন্দদের। আমন্ত্রণ পেয়ে বিয়ে অনুষ্ঠানে ছুটে আসেন, রংপুর সিটি কর্পোরেশন মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, জেলা পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার, জেলা প্রশাসক প্রতিনিধি, সাংবাদিক, রাজনীতিবীদসহ সর্বস্তরের পেশাজীবি মানুষজন।

৩ শতাধিক অতিথি’র উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থল হয়ে উঠে আনন্দ মুখর। এজন্য এক অন্যরকম মিলন মেলা। সকলের মুখে মুখে প্রশংসিত হয় এ মহতী উদ্যোগ। বিয়ের আয়োজনের এক পর্যায়ে চলে আসে বরযাত্রী। মিঠাপুকুর উপজেলার শালমারা বাজার এলাকার আব্দুল হালিমের পুত্র বর নিয়ামুল মিয়া বর বেশে আসার পর শুরু হয় বিয়ে উৎসব। বর-কনেকে উপস্থিতি সকলে উপহার সামগ্রী দিয়ে আর্শিবাদ জানান অতিথিরা। শুরু হয় প্রীতিভোজ খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন শেষে বর-কনেকে পালকিতে করে বিদায় দেয়া হয়। মানবতার সেবায় সমাজের উন্নয়নের অঙ্গীকার নিয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে ফজিলা কালাম ফাউন্ডেশন (এফকেএফ) চেয়ারম্যান মোঃ ফজলুল হক মিলন নিজ উদ্যোগে এ আয়োজন করেন।

ফজিলা কালাম ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোঃ ফজলুল হক মিলন বলেন, আমি দীর্ঘ ১২ বছর ধরে সমাজসেবা মূলক হতদরিদ্রদের সাহায্য, এতিমদের বিয়ে, প্রাকৃতিক দূর্যোগে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। এতে আমাদের সহযোগিতা করেছে আমার আমেরিকান প্রবাসী ভাই মোঃ সোলায়মান মিয়া। তিনি বলেন, তালুক রঘু বগুড়া পাড়ার গামেন্টস্ কর্মী আব্দুল মতিন মিয়া ও আলেয়া বেগম দম্পতির ৭ সন্তানের মধ্যে ৫ ছেলে ও দুই মেয়ে।

২০১৮ সালে ঢাকায় মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ হয়ে মতিন মিয়া মারা যান। এরপর থেকে আলেয়ার সংসারে নেমে আসে অভাব ও অনটন। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় কোন রকমে বড় মেয়েকে বিয়ে দেন তিনি। এরপর মায়ের সাথে যোগাযোগ ছিন্ন করে বড় দু’ছেলে বিয়ে করেন। এতে করে ছোট ৩ সন্তান নিয়ে বিপাকে পড়েন আলেয়া।

পা দিয়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে হেটে মানুষের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করে কোন রকম দিন পাড় করছিলেন তিনি। এরই মধ্যে ছোট মেয়ে রিতু আক্তার বিবাহযোগ্য হয়ে পড়লে আরও চিন্তিত হয়ে পড়েন আলেয়া বেগম। এমন পরিস্থিতি সংবাদ পেয়ে তার পরিবারের পাশে দাঁড়ায় ফজিলা কালাম ফাউন্ডেশন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.