স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বাংলাদেশ

সাজ্জাদ হোসেন রায়হান
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিজয় লাভ করে।  কিন্তু ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ হিসেবে পৃথিবীর বুকে মাথা তুলে দাঁড়ায়।
পৃথিবীর বুকে জন্ম হয় সুজলা, সুফলা, শস্য, শ্যামলী এক ভূখন্ড। পৃথিবীর বুকে যে দেশ স্থায়িত্ব করেছে মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধার ও ভালোবাসার এক রক্তিম সূর্যের প্রতীক। যে দেশের রন্দ্রে রন্দ্রে পাওয়া যায় ৩০ লক্ষ শহীদ ও অসংখ্য মা-বোনের ইজ্জতহানীর ঘ্রাণ। লাল সবুজের পতাকা বাহী এই দেশে চলছে একদিকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী, অন্যদিকে বাঙ্গালির স্বাধীনতা যুদ্ধের শ্রেষ্ঠ কর্ণাধার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী।
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এই দেশের মানুষের জন্য আনন্দচিত্তের এক মাহেন্দ্রক্ষণ। তা এই দেশের মানুষের জন্য কতটা আবেগাপ্লুত সময় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই দেশের মানুষের জন্য তা কতটা আনন্দে উৎফুল্লতা প্রকাশ করার সময় তা ভাষায় প্রকাশ করার মত না।
এই দেশের আকাশ বাতাশ যেন স্বাধীনতার অর্জন ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী আনন্দ মিছিলের আনন্দ স্লোগানে কল্লোলিত। দেশের সর্বত্র উত্তোলিত সবুজের সমারহে রক্তিম সূর্যের পতাকা গুলো হাওয়ায় নাচতে নাচতে যেন বলছে, “পৃথিবীর বুকে আমি এক রক্তঝরা ইতিহাসের প্রতীক, যে হাতে হাত মিলিয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে জানে, শত্রুপক্ষকে পদধূলিতে পিষে মারতে জানে।”। পৃথিবীর বুকে এ যেন বাংলাদেশের মহাগৌরবের এক পরম ক্ষণ।
প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যাঁরা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন তাঁদের কাছে এ যেন এক জীবনের সেরা মুহুর্ত। প্রতিনিয়তই তাঁদের হৃদয়ে দোলা দিচ্ছে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর আনন্দ। তাঁদের কাছে এটি এক আবেগাপ্লুত সময়। মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে স্বাধীনতা আর বঙ্গবন্ধু যে কি হতে পারে তা আমাদের চিন্তা চেতনার বহির্ভূত। বাংলাদেশে সর্বত্র বিরাজ করছে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী৷
প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করা মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে এটি একটি স্বগৌরবেরও বিষয়। প্রত্যেকটি মুহূর্ত যেন হাজার বছরের সাধনার ফল তাঁদের কাছে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পর এসেও যে, দেশের মানুষ তাদের এভাবে শ্রদ্ধা ভক্তি করে তা তাঁরা নিজ চোখে প্রত্যক্ষ করতে পারছে এর থেকে বেশি হয়তো কিছুই চাওয়ার ছিলো না। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এরকম রমরমা উদযাপন দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে নিজের অজান্তে হয়তো তাঁদের চোখের কোণে জল জ্বলজ্বল করছে। দেশব্যাপী এই উদযাপন সত্যিই তাঁদের জন্য পরমানন্দের ক্ষণ।
যাঁরা একাত্তর-উত্তর প্রজন্ম তাঁদের কাছে বাংলার রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা অর্জন ও কালজয়ী নেতার অমিত সব বাণী দৃঢ় চিত্তে অন্তরে উপলব্ধি করার সুবর্ণ সুযোগ। সারা বাংলাদেশের অলিতে গলিতে পুরো বছর জুড়ে চলছে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর নানা আয়োজন, যা একাত্তরের পরবর্তী প্রজন্মকে বাংলাদেশের ইতিহাস পাঠ ও হৃদয়ে ধারণ করতে উদ্ভুদ্ধ করছে। প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে ইতিহাস জানার প্রতি প্রবল ইচ্ছে।
অল্প অল্প হলে ও ইতিহাস আন্দাজ করতে পারছে স্বাধীনতা অর্জনের দিন গুলি কেমন ছিলো, বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী অদমনীয় সাহসিকতার সব কর্মকান্ড কেমন ছিলো। কিভাবে বাংলার অতি সাধারণ মানুষগুলোকে দস্যুর মত অদমনীয় করে তুলেছিলো বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধু যে নেতৃত্বের মাধ্যমে জনসাধারণের বুকে সাহস সঞ্চার করেছিলেন তা উপলব্ধি করতে পারার এর থেকে ভালো সময় হয়তো একাত্তরের পরবর্তী প্রজন্মের আর আসবে না।
অলিতে গলিতে ধ্বনিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর সেই তেজস্বী ৭ মার্চ ভাষণ “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারে সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” যে ভাষণ একাত্তরের পরবর্তী প্রজন্মকেও রক্ত আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছে। আর বর্তমান তরুণ প্রজন্ম ইতিহাস পাঠ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন অবলোকন করে স্বাধীনতা অর্জনের সেই সময় ও বঙ্গবন্ধুর সেই জ্বালাময়ী ভাষণের ইতিহাসের রূপরেখা নিজের মধ্যে ধারণ করার এর থেকে সুবর্ণ সুযোগ আর পাবে না তা নিসন্দেহে বলা যায়।
৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে স্বাধীনতার বীজ বপন করে গিয়েছে সেই স্বাধীন ভূ-খন্ডকে সোনার বাংলায় রূপান্তর করতে হাতে হাত রেখে কাজ করে যেতে হবে। স্বাধীনতার সেই চারাগাছকে যত্নে লালনপালন করে বিশ্ব মানচিত্রে বটবৃক্ষ সদৃশ দাঁড় করাতে বাংলার আপামর জনগণকে কাজ করে যেতে হবে।
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে, “দেশ আমাদের মা”, আমাদের সেই মা’র মাথা সুউচ্চ করতে বাংলার দামাল ছেলেদের সর্বস্তরে যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হবে। কৃষিকাত, চিকিৎসা ক্ষেত্র, শিক্ষাব্যবস্থা, জ্ঞান-বিজ্ঞানে, সাহিত্য-সাধনায় এবং তথ্য প্রযুক্তিতে বিশেষ নজর দিয়ে যোগ্যতা সম্পুর্ণ হয়ে বিশ্বের বুকে সোনার বাংলাকে প্রদর্শন করতে হবে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে শপথ হোক সোনার বাংলাকে এগিয়ে নেওয়ার। সোনার বাংলা আলোকিত হোক, বাংলাদেশ দীর্ঘজীবী হোক।
লেখক
শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ,
ঢাকা কলেজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.