রংপুরে চলন্ত গাড়ী থেকে স্ত্রী-দুই সন্তানকে ফেলে হত্যা চেষ্টা, স্বামী গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রংপুরে যৌতুকের দাবি পূরণ না করায় চলন্ত গাড়ী থেকে সন্তানসহ ফেলে হত্যার চেষ্টা করলেও প্রাণে বেঁচে গেছেন ওই নির্যাতিত নারী মাইশা মোজাহিদ। তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় পথচারীরা উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেছে। এ ঘটনায় মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ স্বামী মতিউল হাসান সুমনকে গ্রেফতার করেছে।

অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ হাজিপাড়া এলাকায়। এ ঘটনায় নির্যাতিতা নারী মায়িশা মোজাহিদ তন্নী বাদী হয়ে রংপুর মেট্রোপলিটান কোতয়ালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ বছর আগে রংপুর নগরীর শালবন মহল্লার মোজাহেদ হোসেন ফুলুর মেয়ে মায়িশা মোজাহিদ তন্নীর সাথে কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ হাজিপাড়া এলাকার মাহমুদার রহমানের ছেলে মতিউল হাসান সুমনের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় ছেলে ও তার স্বজনদের অনুরোধে মেয়ের সুখের জন্য যৌতুক হিসেবে নগদ দশ লাখ টাকা ১৭ ভড়ি সোনার গহনা সহ প্রায় ২৮ লাখ টাকার মালামাল ও অর্থ প্রদান করা হয়। বিয়ের কিছুদিন পর মায়িশা জানতে পারে তার স্বামী সুমন রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় একটি বিয়ে করেছিলো যৌতুক সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সেই বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটে।

এসব জানার পরেও মায়িশা স্বামীর সাথে ঘর সংসার করতে থাকে। এ সময় তাদের দুটি কন্যা সন্তান জন্ম লাভ করে। তাদের বয়স যথাক্রমে চার বছর ও দেড় বছর। এদিকে তার স্বামী মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে তার প্রতিদিন মাদক সেবন করতে ৫-৭ হাজার টাকা লাগে। প্রথম দিকে তার বাবা মা এ মাদক কেনার টাকা টাকা প্রদান করলেও হঠাৎ করে টাকা দেয়া বন্ধ করে দেয়। এরপরেই শুরু হয় স্বামী সুমনের মায়িশার উপর নির্যাতন সে বাবার বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে আসার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। রাজি না হওয়ায় তাকে মারধর করে। বিষয়টি মায়িশা তার বাবা মাকে জানালে তার বাবা মেয়ের সুখের কথা ভেবে আবারো যৌতুক হিসেবে দশ লাখ টাকা প্রদান করে।

এ টাকা শেষ হয়ে গেলে আবারো ২৫ লাখ টাকা যৌতুক হিসেবে বাবার বাড়ি থেকে আনার জন্য এক মাস আগে মারধর করে বাসা থেকে দুই শিশু সন্তান সহ বের করে দেয়। মায়িশা বাবার বাড়িতে চলে আসে। এর মধ্যে মায়িশার বাবাসহ স্বজনরা দুই শিশু সন্তানের কথা ভেবে সংসার করার জন্য আবারো জামাতা সুমন ও তার বাবা সহ স্বজনদের বাড়িতে দাওয়াত দিয়ে গত ২৪ মে বাসায় ডেকে আনে। সেখানে আলোচনা করার পর আবারো ছেলে সুমনকে বার লাখ টাকা প্রদান করে। তার পর মায়িশা তার দুই শিশু সন্তান ও স্বামী সুমন শশুড় মাহমুদার রহমান প্রাইভেট কারে করে গাড়িতে তুলে দেয়। কিছুদুর যাবার পর যৌতুক সুমন কেন তার দাবি করা ২৫ লাখ দেয়া হলো না একথা বলে গাড়ির ভেতরেই আবারো মায়িশাকে মারধর করে। এক পর্যায়ে গাড়ির ভেতরে ইলেকট্রিক তার গলায় পেচিয়ে শ্বাস রোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। এ সময় তার আত্মচিৎকারে লোজন এগিয়ে এলে চলন্ত গাড়ি থেকে সুমন তার স্ত্রী মায়িশা ও দুই শিশু সন্তানকে ফেলে দিয়ে গাড়ি নিয়ে চলে যায়। গুরতর আহত অবস্থায় মায়িশাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসাধিন অবস্থা থেকে সুস্থ হবার পর মায়িশা নিজেই বাদী হয়ে মেট্রোপলিটান কোতয়ালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করে। এ ঘটনায় পুলিশ স্বামী সুমনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠালে তাঁর আইনজীবী জামিন প্রার্থনা করলে বিচারক তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়। মামলা করার পর তার স্বজনরা মামলা তুলে নেবার জন্য নানান ভাবে হুমকি প্রদান করছে ফলে মায়িশা চরম নিরাপত্তা হীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

এ ব্যাপারে মায়িশার বাবা মোজাহিদ হোসেন ফুলু জানান, মেয়ের সুখের জন্য ৫০ লাখ টাকা দিয়েও নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করতে পারলাম না। তিনি ঘটনার দায়িদের বিচার ও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করেন।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালী থানার ওসি আব্দুর রশিদ জানান, এটা চরম অমানবিক ঘটনা।মামলার অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতার করার চেষ্টা করছি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.