নবজাতকের কান্না

জিল্লুর রহমান প্রামানিক:

এখানে নবজাতকের কান্না ঈশ্বর অবধি পৌঁছোয় না !
জীবন থেমে যায় সূর্য ওঠার আগে- নগরের কোলাহলের ভিড়ে!
ভোরের বিধবা শরীর আড়মোড়া ভেঙে দেখে
বৈধব্যের ক্লান্ত বিকেল পৌঁছে গেছে
লাল গোধূলি পেরিয়ে দিগন্তের শেষ সীমানায়
নক্ষত্রের জরায়ু ভেদ করে ডানা মেলেছে কষ্টাম্বড়ি আকাশের নীল জমিনে!
রোদ্দুরে অহেতুক নগ্ন মাছির নিতম্বে খেলে
ছাল ওঠা বেশ্যার ছায়া – গলির ভেতর দিবসের শুরুতেই আঁধার নামে ;
চারদিকে ভুঁড়ি মোটা মেধাবী শকুনের গমগমে শব্দ –
ডাস্টবিনে জমানো ময়লার ভেতর শব্দিত হয়
জীবনের চিৎকার – মানবিক কুকুর – মুখে তুলে নেয় নিষ্পাপ এক ঈশ্বরের জীবন
অতঃপর মানুষের ভিড়ে হারিয়ে যায়!
আমার ঈশ্বর নগরের নোংরা গলির মাথায়
বিলাসী ড্রইং রুমে মকমল বিছানায়
দ্রাক্ষারসের পেয়ালা হাতে
রমণীর উদলা শরীরে
নিজেকে হারায় নেশার ঘোরে!
একটি শিশুর কান্নাও আজ
নগরের উঁচু দালান ভেদ করে
পৌঁছে না ঐ ঈশ্বরের বধির কানের গহ্বরে!
গলির মোড়ে অদ্ভুত আঁধারের বিবর্ণ ঠোঁটে
ক্ষয়িষ্ণু জীবনের রক্তাক্ত শিস
নীল বেদনার পাণ্ডুলিপি হাতে
এক চিমটি জ্যোৎস্নার খুঁজে
এক অন্ধ সুন্দরী আজো কাঁদে!

 

জিল্লুর রহমান:কবি ও লেখক।

Leave a Reply

Your email address will not be published.