এ কে সরকার শাওন:
 
ইদুল আজহার সকালে সবাই মিলে একত্রে খাবার খাওয়াটা অতি আনন্দের । জগ্লু সাহেবের বাড়ীতে সবাই বলতে স্ত্রী কানিজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া দুই রাজকন্যা চিত্রা আর শ্রবণা, মাষ্টার্সে প্রথম শ্রেণি পাওয়া চির বেকার শ্যালক গ্রট জামিল আর এইট ফেল কেয়ারটেকার কাম ম্যানেজার বেল্টু । জ্যেষ্ঠ কন্যা “ধন্যি মেয়ে” স্বাতী শ্বশুরবাড়ি। টেবিলে জামিল ও বেল্টুও অনুপস্থিত । জামিল এখনো মুখ হা করে কোলবালিশ জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে দিবা স্বপ্ন দেখছে। কানিজ কয়েকবার ডেকে এসেছে বটে কোন লাভ হয় নি। লাভ হতো যদি আবাহনী ও মোহামেডানের ফুটবল খেলার মারামারির মত পিঠে পটাস পটাস ছাতার কাঠের হাতল দিয়ে গুনে গুনে ২/৩ ঘা বসিয়ে দেওয়া যেতো। অন্যজন গরু কোরবানী দিতে হুজুরের সাথে আছে।
 
ইদের বাড়তি আনন্দের ছাপ খাবার টেবিল ছাড়া আর কোথাও চোখে পড়ছে না। চিত্রা ও শ্রবণা দু’জনেই সাধারণ পোশাকে টেবিলে শিশুদের মত চুপচাপ খাচ্ছে। মাঝে মাঝে ওদের মায়ের রান্নার প্রশংসা করছে।
 
এ বাড়ীতে এবারের ইদটাও অতিমারি করোনার কারনে নিরুত্তপ। ইদের পর পরেই লকডাউন থাকায় স্বাতী ও স্বপন ইদ করতে ঢাকায় আসেনি। স্বাতী বলেছে সবার আগে সুস্থথা বাবা। করোনা থেমে গেলে আবার আমরা একসাথে ইদ করবো। তুমি মন খারাপ করো না। তবুও মনটা খারাপ। জ্যেষ্ঠ কন্যা স্বাতী ২০১৯ সালের ইদের সময় শ্বশুর বাড়ী থাকায় শাওনাজ ভবনে আনন্দের মাঝেও কেমন একটা বেদনার সুর বেজেছিলো। স্বাতীকে নিয়ে “ধন্যি মেয়ে” কবিতায় জগ্লু লিখেছে…
 
মামনি নেই যে ঘরে,
সে ঘরে উৎসব
হয় কি করে?
সে যায় যেথায়
উৎসব সেথায়,
নিত্য খেলা করে!
 
তবে গতকাল ভিডিওতে কোরবানীর গরু ছাগল নিয়ে তাদের উচ্ছ্বাস-উচ্ছ্বলতা দেখে কিছুটা ভালো লেগেছে। ছাগলের দড়ি হাতে ধরে স্বাতীর বসে থাকা দেখে জগ্লুর হাসির বদলে চোখে জল এসে গিয়েছিলো। যদিও ভিডিওতে কেমন একটা রাখাল রাণী রাণী ভাব তবুও জগলুর চোখে উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ এবং স্যামুয়েল টেইলর কোলরিজ এর লিখা দুঃখপূর্ণ কবিতা রাথ (Ruth) এর নায়িকা রাথের কথাই মনে পড়ে গেছে। রাথ কবিতায় অনাথ বালিকা রাথ মনের দুঃখে পাহাড়ের ঢালে ও লেকের পাড়ে ঘুরে বেড়াতো। জগলুও মনে হচ্ছিলো তাদের অদুরে রাজকন্যাটি বাবা-মা বিহনে দুঃখে একা একা ঘুরছে। যদিও বাস্তবে মেয়ে সুখেই আছে। বেয়াই প্রিনসিপ্যাল সাহেব ছেলে ও বৌমাকে সাথে নিয়ে ওদের পছন্দমত গরু ও খাসী কিনে এনেছে। সেই খুশীতে ওরা খাসী নিয়ে কলেজ প্রাঙ্গনে ঘুরে বেড়িয়েছে। কারন গরুকে ওরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। তাই ওটা নিয়ে ঘোরার প্রশ্নও অবান্তর। আসলে ওরা এখনো বড্ড ছেলেমানুষ। এ বছর ওদের সংসারে প্রথম কোরবানী। আল্লাহ কোরবানী কবুল করুক।
 
জগ্লু সাহেবের কোরবানী হচ্ছে অনতিদূরে মাঠের পাশে। করোনার কারনে অনলাইনে গরু কিনেছে। অন্য বছরের তুলনায় কম দামে। একটু আগে বেল্টু কানিজকে ওয়াকিটকি ষ্টাইলে ফোন করে জানালো, “ম্যাডাম, গরু জবাই ডান! ওভার” বলেই কল কেটে দিলো। কানিজ বেল্টুর বেংলিশ বলার স্টাইলটি সবাইকে রিলে করে শোনালে সবাই হেসে লুটোপুটি। জগলু বললো ওর মাঝে ইদের আনন্দটা পুরোপুরী বিদ্যমান রয়েছে। দেখছো না গরু জবাই দিতে যাবে তার জন্য সুটেট, বুটেট, বেল্টেড, টাইড হয়ে একে বারে সানগ্লাসড।
গত দুইদিন এই গরুর পিছনে সারাক্ষণ লেগে আছে। কতরকম ছবি তুলে বদন বইয়ে পোষ্ট দিয়েছে তার ইয়াত্তা নাই। কানিজ জানালো।
ফেসবুকে ওর আইডিতে ওর পজিশন কি জানো আপু?
শ্রবণা চিত্রাকে জিজ্ঞেস করলো।
কি ডাক্তার না মোক্তার? চিত্রা জানতে চাইলো।
না না তা না।
ও মহান শিক্ষক, তাও আবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের।
বলিস কি? জগ্লু বিস্মিত হয়ে জানতে চাইলো।
তুমি আবার বেল্টুকে কিছু জিজ্ঞেস করো না বাবা। ছেলেটা লজ্জা পাবে। শ্রবণা বাবাকে বললো।
চিত্রা জানালো গরুর মুখে রুচি আনার জন্য ও নাকি ভাতের মাড়, খইল ও খড়ের সাথে টেস্টিং সল্টও মিশিয়েছে।
তাই নাকি? জগ্লু আশ্চর্য হয়ে বললো
বেল্টু যে কি করে না!
শুধু তাই নয় বাবা, সকালে গরুকে গোসলের সময় শ্যাম্পুও দিয়েছে গরুর মাথায়!
কি কাণ্ড দেখো। বেল্টু একটা আস্ত পাগল। জগ্লু বিড়বিড় করে বললো।
 
আচ্ছা ভালো কথা স্টুপিড জামিলটা কোথায়?
মুরগীর ঠ্যাং চিবোতে চিবোতে জগ্লু জানতে চাইলো।
মামা এখনো ঘুমে বাবা! শ্রবণা বললো।
তোমরা কেউ ওকে ডাকবে না!
জগ্লু আশ্চর্য হয়ে জানতে চাইলো।
মা তিন তিন বার ডেকেছে মামাকে।
শেষেরবার ডাকার পর উঠে বসেছিলো বটে সাথে সাথেই আবার শুয়ে নাক ডাকতে শুরু করে দিয়েছে।
বাবা, তুমি মামাকে সব সময় স্টুপিড বলো কেন?
চিত্রা কৃত্রিম চোখ মুখ রাঙ্গিয়ে বললো।
এটা হচ্ছে তোর বাবার মুদ্রা দোষ। শ্বশুর বাড়ী ও শ্বশুর পক্ষের কারো খুঁত না ধরলে তার পেটের ভাত হজম হয় না। ভালো কবিতাও বের হয় না। ক্ষিপ্ত কানিজের জবাব।
না মুদ্রার যেমন কোন পিঠেই খুঁত থাকে না আমার কথায়ও খুঁত নাই।
যা বলেছি একদম ঠিক বলেছি।
স্টুপিড না হলে কেউ ইদের দিনেও এতো বেলা করে ঘুমায়।
 
এই, তোমার মোবাইলের লাইট জ্বলছে।
কানিজ বললো।
চিত্রা মোবাইলটি এগিয়ে দিয়ে বললো।
ডাক্তার চাচ্চুর ফোন বাবা।
জগ্লু রিসিভ করলো
ভাই, আসসালামুঅলাইকুম। সবাইকে ইদ মোবারক।
হুম, তোমাদেরকেও ইদ মোবারক। নামাজ পড়ছো কোথায়?
আমাদের পাশে বায়তুল আমান জামে মসজিদে ভাই। আপনারা কোথায় পড়ছেন?
আমি, রুপম ও কদম বাসাতে জামাত করে পড়েছি।
ইমামতি কে করেছে?
আমি ই। জগ্লু হে হে করে হেসে দিলো।
ভাই রেগে বল্ললো হাসছো কেন?
ভাই করোনার কারনে আপনি ইমামতিও করলেন তাই হাসছি।
আছছা শোন জগলু, তুমি বাসাই এসে সবাইকে নিয়ে।
ভাই জগ্লুদের দাওয়াত দিলো।
আপনারাও আসবেন।
দেখি সময় পেলে আসবো বলেই ফোন রেখে দিলো ভাই।
 
ভাই-বোন ও বাবা-মায়ের সাথে টেলিফোনে কথা বলাটা চিরদিন একটা সমস্যা হয়ে রইলো। এক মিনিট কথা বলার পর আর কোন ভাষা খুঁজে পায় না জগ্লু। অথচ কুয়েত বিমান বাহিনীর বন্ধু শফিকের সাথে একটানা একঘন্টা এগারো মিনিট কথা বলেছে য়াজ সকালেই।
 
তারপরও জগ্লুর মনটা খারাপ। বিমান বাহিনীরও প্রান গ্রুপের দীর্ঘ দিনের সাবেক সহকর্মী বন্ধু আসাদুজ্জামান করোনায় আক্রান্ত হয়ে বাসার নির্জন কক্ষে ইদবিহীন নিরানন্দে দিনাতিপাত করছে। ছোট বোন মাহমুদা গতকাল সকাল আটটায় একা কুষ্টিয়ায় রওয়ানা দিয়েছে। জগলু ভাবলো মাহমুদা মনে হয় দুপুরেই কুষ্টিয়া পৌঁছে গিয়ে ছেলে মেয়ে নাতীদের সাথে সুন্দর সময় পার করছে। না, রাস্তায় এতো জ্যাম গাড়ী মোটে আগায় না। রাত দশটায় ভাবলো এখন নিশ্চয়ই পৌছে গেছে। জগ্লু ভাবলো বোনটা জার্নি করে বড্ড টায়ার্ড। এখুনি ফোন দেওয়া উচিত। নচেৎ পরে ঘুমিয়ে পড়বে।
সে রান্নাঘরে কানিজের উদ্দেশ্যে একটু জোরে বললো,
কানিজ, মাহমুদাকে একটা কল দিয়ে খবর নাও।
তৎক্ষনাৎ কানিজ হাজির। ইদের আগের রাতে অনেক কাজ তাই কোমর ওড়না দিয়ে টাইট করে বাঁধা। মুখের ঘাম টপ টপ করে ঝরছে। হাতে মাছ ভাজার খুন্তি ভারটিক্যালি নাক বরাবর দাঁড় করিয়ে ওটাকে নাচিয়ে নাচিয়ে বললো
কি হয়েছে বলো? চিল্লায়ে কি যেন বললে?
আগে খুন্তিটা হাত থেকে নামাওতো!
তা না হলে তোমাকে দস্যু ফুলন দেবী ফুলন দেবী লাগছে।
মনে হচ্ছে এখুনি খুন্তি দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে আমার চোখ উপড়ে ফেলবে।
এখনো যেভাবে ডানে বায়ে তাকাও সেটাই করা উচিত। কানিজ সাপের মত ফোঁস করে বললো।
জগ্লু বললো আরে ব্যাপারটা সিরিয়াস। খুন্তিটি নামাও ডার্লিং!
এই নামালাম। বলো। কানিজ হেসে বললো।
মাহমুদার খবরটা একটু নাও। আমার টেনশন হচ্ছে।
জাষ্ট নিলাম। টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জের রাস্তায় প্রচুর জ্যাম। সে এখনো বঙ্গবন্ধু সেতুর কাছাকাছি! কুষ্টিয়া বহুদূর।
জগ্লুর মনটা খুবই খারাপ হয়ে গেলো।
ওকে আগেই বলেছিলাম ইদের আগের দিন তুই কুষ্টিয়া না গিয়ে বরং মারুফকে এখানে চলে আসতে বল।
সেখানে তো সে কোরবানী দিচ্ছে। তাই ওকে যেতেই হয়েছে। বলেই কানিজ চলে গেলো।
 
এরপর রাত বারোটায় কানিজ আবার ফোন দিয়ে জানলো গাড়ী ঠিক আগের জায়গাতেই রয়েছে। এতো জ্যাম যে গাড়ী ঘন্টায় ১০০ মিটারও এগোয়নি। রাতে ও ভোরে কয়েকবার ফোন দিয়ে জানলো চব্বিশ ঘন্টাই লেগে গেলো ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া পৌঁছাতে।
 
জগ্লুর লিখালিখির কক্ষ নামক প্রকোষ্ঠে বসেই নজর গেলো কাকবন্ধ্যা গোলাপ গাছেটির দিকে। গোলাপের রং ফ্যাকাশে হলুদ। জঘন্য রং। একবার মন চায় গাছটি কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলে দেয় পচা সারের ডাস্টবিনে। ভিলেন যেমন সুটেড হয়ে সানগ্লাস চোখে পরে গোলাপ হাতে কঁচলিয়ে পিষে ফেলে তেমনি ফুলটাকে পিষে ফেললেও ভালো লাগতো। এমন বিশ্রী প্রজাতির গোলাপ সে জীবনে দেখেনি। নার্সারী থেকে সে নিজে কিনে এনেছে বলে কাউকে কিছু বলতে পারছে না। বলতে পারলে গায়ের ঝাল মিটতো। মানুষ উদোর পিণ্ডি বুূদুর ঘাড়ে দিতে পছন্দ করে।
 
গোলাপের পাশে শিউলী ফুলগাছটি ডাগর হয়ে উঠেছে। বছরে একবার ফুল হবে। নার্সারীওয়ালা মকবুল সাহেব বলেছেন ভাগ্য হলে সামনের আশ্বিনে ফুল ফুটতে পারে। জগলুর ভাগ্য এতো সুপ্রসন্ন না সুতরাং সে ধরে নিয়েছে এবার শিউলী গাছটি তাকে বলবে ” আসবো গো, সামনের অশ্বিনে”!
 
আকাশটা মেঘাচ্ছন্ন, একটু আগেই এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেলো। গাছগুলোর পাতায় পাতায় এখনো ফোঁটা ফোঁটা পানি স্ফটিকাকার মুক্তার দানার মত লেগে আছে। সূর্য মামা থাকলে আলো ঠিকরে পড়ে ডামন্ডের মত ঝিকিমিকি করতো। পেঁপেদলের গায়েও পানির ফোঁটা ফোঁটা লেগে আছে। আলো না থাকায় থাকায় সাড়ে এগারোটায়ও নাজ সার্কেলের পৌর্তলিকাগুলি মুখ ভার করে অর্ধফুটন্ত অবস্থায় বসে আছে। দৃষ্টি নন্দন কত্তোগুলো সবুজ গাঁদাফুল গাছের মধ্যে অসময়ে ফোঁটা মাত্র একটি ফুল সবেধন নীলমণির মতো দূর আকাশের তারার হয়ে আলো ছড়াচ্ছে। আশ্বিনা আমগুলোও মনের দুঃখে নীরবে ড্যাব ড্যাব করে জগ্লুর দিকে তাকিয়ে রয়েছে।
 
পাশে থাকা ওয়াল ফ্যানটা এতো বেশী জোরে ঘুরছে মনে হচ্ছে যেন জগ্লু যুদ্ধ উড়োজাহাজ মিগ-২১ এর টারমাকে বসে আছে। যেখানে ল্যান্ডিং গিয়ার মোটা শিকলে বেঁধে সামনের ও পিছনের চাকায় চোক দিয়ে আটকে রেখে এবি বাটন অন করে শতভাগ রান দেয়া হচ্ছে। রান সেট হয়ে গেলেই ফাংশনাল চেক ফ্লাইটে যাবে। এক সেট হেয়ার প্লাগ হলে ভালো হতো। খালী গায় থাকায় একটু শীত শীত ও অনুভুত হচ্ছিলো বিধায় জগ্লু ফ্যানের রেগুলেটরটি ৩ থেকে ১ এ চাপলো।
 
সামনের গ্রিল ঘেঁষে মাধবী লতার সবুজ পাতা ও রঙিন ফুলে ভরপুর। কিছু পাতা পেকে গিয়ে হলুদ হয়েছে। সবুজের মাঝে হলুদ একদম বিরক্তিকর। বাদামী রংয়ের হলুদ পাতাগুলো একটু আগে টেনে টেনে ছিড়ে ফেলেছে। মাধবী লতার সাথে অপরাজিতাও ফুলে লতায় পাল্লা দিয়ে ধাবিত হচ্ছে। তারপর বাঁশ দিয়ে গেটের মত একটায় কুঞ্জলতা পেঁচিয়ে ঘিরে রয়েছে। নীচে সারি বাঁধা দোপাটি ফুল। পাশে বাহারী সন্ধা মালতী গাছের ছড়াছড়ি। তার পাশেই কুমারী হাস্নাহেনা ফুল গাছ।।
কানিজ বলেছিলো দেখেছো দু’টি মেয়ের নামে একটি ফুলের নাম হাস্নাহেনা।
ফুলের নামটি দু’টি মেয়ের নাম না হয়ে সাথে একটি ছেলের নাম থাকলে কি মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যেতো?
জগলুর তির্যক প্রশ্ন।
কানিজ বললো তোমার সবকিছুতেই বাড়াবাড়ি।
তা বাড়াবারি কেন হবে না?
দেখছো না পাহাড়ের নাম ময়নামতি।
আহা কি প্রেমময় নাম। ময়না আর মতি।
কেমন যেন একটা আবেশ-রেশ আবেশ-রেশ ভালোবাসা।
আমি এই ফুলের নাম দিলাম জগলুহেনা।
এটা কি মিলেছে? হাস্নাহেনা তো কি সুন্দর মিলে রয়েছে। যেন অঙ্গাঅঙ্গী জড়িয়ে রয়েছে নাম দু’টি।
তাছাড়া তুমি কি এখনো ছেলে রয়েছো বুড়ো?
একটু রেগে কানিজ জবাব দিলো।
আচ্ছা আচ্ছা মিলিয়ে দিচ্ছি “হাস্নাহাসান” !
দেখেছো কেমন খাপের খাপ মিলে গেছে হাস্নাহাসান!
এবার আর অঙ্গাঅঙ্গী নয় তনুর ফাগুনে একেবারে গলায় গলায় জড়িয়ে ধরে মুখোমুখি।
আর আমাকে বুড়ো বলেছো। আমার তো মনে হয় আমি এখনো যুবকই হইনি। বাবা মায়ের খোকাই রয়ে গেছি! দেখো না শ্রবণা মামনি আমাকে বান্টি বলে ডাকে?
কানিজ রেগে বললো “হুম”।
তোমার সাথে থাকতে থাকতে এমনিতেই আমি আধা পাগল হয়ে গেছি। বেশীক্ষণ থাকলে ফুল পাগল হয়ে যাবো। বলেই একটি ঠমক দিয়ে হন হন করে চলে গেলো। জগলু সবখানে শুনেছে বউয়ের জ্বালায় স্বামী পাগলও হয়। জগলু এইক্ষেত্রে বিপরীত।
 
 
এ কে সরকার শাওন
শাওনাজ, উত্তরখান, ঢাকা
২১ জুলাই ২০২১

Leave a Reply

Your email address will not be published.