১৪৫ তম দেশ ভ্রমণ করল নাজমুন নাহার

নাজমুন নাহার:

পর্বত ঘেরা বুজুমবরা নগরীর মধ্যদুপুরে বিমানটি ল্যান্ড করলো আকাশ থেকে। অবশেষে পা রাখলাম বুরুন্ডির মাটিতে। এটি আমার পৃথিবী ভ্রমণের ১৪৫ তম দেশ। বিমান থেকে নেমে যখনই চোখ রাখলাম সামনের দিকে দেখতে পেলাম খুবই চমৎকার ডিজাইনের এয়ারপোর্ট।

এত কিউট এয়ারপোর্ট পৃথিবীর কোথাও আমি দেখিনি। সব ফর্মালিটিজ শেষ করে এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়েই বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা উড়িয়ে দিলাম বুরুন্ডির আকাশে।‌ নতুন আরেকটি দেশে সূচনা হলো বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা পৌঁছানোর আরেকটি অধ্যায়। স্বপ্ন পূরণের উচ্ছ্বাস আমাকে আন্দোলিত করে তুললো মুহূর্তেই। কষ্টগুলো ঝরে যেতে থাকলো ধীরে ধীরে যখনই এই নতুন দেশের প্রকৃতির দিকে তাকাতে তাকাতে রওনা দিলাম শহরের দিকে। আবিষ্কারের নেশা আমার ভেতরে জেগে উঠে বার বার।

বুরুন্ডি পূর্ব আফ্রিকার খুবই ছোট্ট পাহাড়ে ঘেরা একটি সুন্দর দেশ। এখানকার মানুষ খুবই হাসি খুশি, তাই দেশটিকে বলা হয়- “ল্যান্ড অব স্মাইল” ! আসলে সত্যিই গত দুই দিনে আমার তাই মনে হলো। রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় কিংবা রেস্টুরেন্টে যখন খেতে গেছি অনেকে হেসে জিজ্ঞেস করবে আমি কি তোমার সাথে কথা বলতে পারি, হেসে কুশল বিনিময় করে তারা, কোথা থেকে এসেছি জানতে চায়।

আমি যে এরিয়াতে থাকছি তার নাম হচ্ছে মুতাঙ্গা নড। এ দেশের দৈনিক আবহাওয়া বৈচিত্রময়। দিনের বেলা অনেক গরম, বিকেল থেকে শুরু হয় ঠান্ডা। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুই ধরনের তাপমাত্রা অনুভব করা যায়। আমার গেস্ট হাউজের বারান্দায় দাঁড়িয়ে সন্ধ্যায় যখন দূরে তাকিয়ে থাকি তখন চারিদিকে পাহাড়ে ঘেরা পাহাড়ের ভ্যালিতে যে ঘরবাড়িগুলো রয়েছে সেখান থেকে যে ছোট ছোট আলোটা দেখা যায় মনে হয় যেন কোন এক সন্ধ্যার স্বপ্ন নগরীকে দেখছি আমি। নিস্তব্ধ প্রকৃতির মাঝে জেগে থাকা কিছু আলো যেন আমাকে নিরালায় এই শহরের প্রেমী করে তুলেছে। দিনের প্রচণ্ড খরতাপ রোদের পর সন্ধ্যার হিমেল হাওয়া যেন শরীরকে জুড়িয়ে দেয়।

সকাল হয়, ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই আমি বেরিয়ে পড়ি শহর ঘুরে আনাচে-কানাচে যা কিছু আছে দেখার জন্য। আমার গেস্ট হাউজের ডান দিকে তাকালেই দেখা যায় পাহাড়ের অপূর্ব ভ্যালি, তার কোল ঘেঁষে রয়েছে বুজুম্বুরা ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস, ডানদিকে খাবারের জন্য রেস্টুরেন্ট রাস্তার উল্টোদিকে। খিদে পেলেই আমি পেট ভরে খেতে পারি পাশের রেস্টুরেন্টে। এই রেস্তোরাঁর খাবারগুলো খেয়ে মনে হলো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মজার খাবারগুলোর মধ্যে একটি।

এই ছোট্ট সুন্দর দেশটির আরো কয়েকটি জায়গায় ঘুরে ঘুরে দেখবো। জীবন অনেক কষ্টের হলেও কষ্টের মাঝেও আমরা খুঁজে নিতে পারি এই জীবনের অনন্য সময় গুলো। স্বপ্ন আমাদেরকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে প্রতিমুহূর্তে। আমি বেঁচে আছি এই পৃথিবীকে দেখতে দেখতে-১৭ কোটি মানুষের লাল সবুজের পতাকাকে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দিতে। আমি সকল স্বপ্নের মাঝে আশার আলো জ্বালিয়ে পৃথিবীর পথে চলছি লাল সবুজের পতাকা হাতে নিয়ে। ১৪৫ তম দেশ বুরুন্ডির পথে পথে।

লেখক: বাংলাদেশের পতাকাবাহী প্রথম বিশ্বজয়ী (১৪৫ দেশ ভ্রমণকারী)।

Leave a Reply

Your email address will not be published.