মঙ্গল গ্রহে জমি কিনে তাক লাগিয়ে দিলেন লালমনিরহাটে সন্তান

লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

মঙ্গল গ্রহে জমি কিনে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার সন্তান ইঞ্জিনিয়ার এলাহান উদ্দিন। তিনি সম্প্রতি মঙ্গল গ্রহে এক একর জমি কিনেছেন, তাও একদম পানির দামে। মাত্র ৫০ ডলালে মঙ্গল গ্রহে জমি কেনার ঘটনায় এলাকা জুড়ে আলোরন সৃষ্টি হয়েছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার (৭ আগস্ট) ইন্টার ন্যাশনাল কুড়িয়া সার্ভিসের মাধ্যমে সেই জমির দলিল পেয়েছেন হাতে। ম্যাপেও উল্লেখ রয়েছে কোথায় আছে তার জমি। তবে তিনি বাংলাদেশী বিজ্ঞানির জন্য মঙ্গল গ্রহে গবেষণার কাজের ওই এক একর জমি উৎসর্গ করেছেন।

লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের বোদলা গ্রামের মো: খায়রুল ইসলামের ছেলে ইঞ্জিনিয়ার এলাহান উদ্দিন। তার তিন ছেলের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার এলাহান উদ্দিন সবার ছোট। তিনি এমএসসি কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং জগন্নাথ ইউনিভার্সিটি  ও বিএসসি ইন সিএসই বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি থেকে পড়াশুনা করেন।

ইঞ্জিনিয়ার এলাহান উদ্দিন বর্তমানে ঢাকা,মকবাজার ও ধানমন্ডি এলাকায় আইসিটি ইনপ্লোয়ার সোসাইটির অফ বাংলাদেশের পরিচালক ও সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার।

বলিউডের প্রয়াত অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত, শাহরুখ খানসহ অনেকেই চাঁদে জমির মালিক হয়েছেন । নতুন খবর হলো চাঁদ ছাপিয়ে মানুষের নজর এখন মঙ্গল গ্রহের দিকে। জমি সেই দলে নাম লেখালেন এক বাংলাদেশী ইঞ্জিনিয়ার এলাহান উদ্দিন  যে প্রতিষ্ঠান থেকে মঙ্গল গ্রহে পূর্বে জমি কিনেছেন সাবেক তিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচডব্লিউবুশ, জিমি কাটার ও রোলান্ড রিগ্যান (সূত্রঃ ইউএসনিউজ), সেই প্রতিষ্ঠানের মালিক ডেনিস হোপের কাছে কিনেছেন ইঞ্জিনিয়ার এলাহান উদ্দিন।

এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে ইঞ্জিনিয়ার এলাহান উদ্দিনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, “প্রযুক্তি থেমে নেই,মঙ্গল গ্রহে সফলভাবে অবতরণ করেছে নাসা (NASA)র ‘মার্স ২০২০ পার্সিভেরেন্স’ (Mars 2020 Perseverance) রোভার’টি। পৃথিবীতে বসেই মঙ্গলে বাসস্থান গড়ার জন্য কাজ করছে একদল বিজ্ঞানী।

বিজ্ঞানীদের এই কাজেও সাক্ষী হয়ে থাকবে বাংলাদেশ। যেহেতু মঙ্গল গ্রহের গবেষণায় কাজ করেন বিখ্যাত বিজ্ঞানিরা। তাই তাদের মাধ্যমে বাংলাদেশের নাম বিশ্ব গবেষণায় ছড়ানোই আমার মূল লক্ষ্য।”

তিনি আরো বলেন, “আমরা পিছিয়ে থাকতে চাই না। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মত,মঙ্গল গ্রহেও পা রাখবে বাংলাদেশীরা। যদি কোন দিন বাংলাদেশী বিজ্ঞানিরা মঙ্গল গ্রহে পা রাখতে পারে, তাদের গবেষণার কাজে উৎসর্গ করা হবে সেই জমি।

এ বিষয়ে চন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, মঙ্গল গ্রহে জমি কেনার বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে জেনেছি। ইঞ্জিনিয়ার এলাহান উদ্দিন একজন মেধাধী ছাত্র ছিলেন, প্রযুক্তির এই যুগে সবে সম্ভব।

সুত্রমতে, মঙ্গলে জমি কেনার তালিকায় রয়েছেন বিশ্বের আরও ১ কোটি ৩২ হাজার ২৯৫ জন। আগামী ২০২৩ সালে চার নভোচারীর প্রথম দলটি যাবে মঙ্গলে।

২০২৩ সাল নাগাদ মঙ্গল অভিযানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে নেদারল্যান্ডসের কোম্পানি ‘মার্স ওয়ান’। সেই লক্ষ্যে টিকেটও বিক্রি শুরু করেছে তারা। তবে এই খবরে নানা বিতর্ক ও সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত আবেদন করেছে দুই লাখের বেশি মানুষ। তাদের মধ্যে এক লাখ ৫৮ হাজার জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুসারে, আবেদনকারীদের মধ্যে থেকে প্রথম ৪০ জনকে নির্বাচন করা হবে। প্রশিক্ষণ শেষে চূড়ান্তভাবে চারজনকে বাছাই করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.