তিস্তার ঢলে বিচ্ছিন্ন কাকিনা-মহিপুর সড়ক ভোগান্তিতে ১০ লাখ মানুষ

লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
তিস্তার তাণ্ডবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে লালমিনরহাট-রংপুর আঞ্চলিক সড়ক। এর ফলে প্রায় লালমনিরহাট রংপুরের প্রায় ১০ লক্ষ মানুষের যোগাযোগে চরম বাধা সৃষ্টি হয়েছে।
ভেঙ্গে যাওয়ার তিন দিনও মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে সাধারন মানুষ দূর্ভোগে পড়েছে।

গত বুধবার সন্ধায় হঠাৎ করে উপজেলার কাকিনা রুদ্রশ্বর মিলন বাজার এলাকায় এই মহাসড়কটি ভাঙ্গনের মুখে পড়ে। ফলে সহজেই রংপুরে যেতে পারছে না তেমনি আসতেও পারছে না এসব এলাকার মানুষজন।

বিশেষ করে রোগীদের নিয়ে ভীষন বিপাকে পড়েছে স্বজনরা। এতে লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলা, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী ও রংপুর, গঙ্গাচড়া, হারাগাছ এলাকার লোকজনের যাতায়াত করতে পারছে না লোকজন। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি উত্তর বঙ্গের একমাত্র হাসপাতাল হওয়ায় প্রতিদিন শত শত রোগী যসতায়াত করত এ মহাসড়কটি দিয়ে। ভাঙ্গনের কারনে সেটিও করতে পারছে রোগীর স্বজনরা। ফলে লালমনিরহাট হয়ে প্রায় ১ শত কিলোমিটার ঘুরে যেতে হচ্ছে রোগীদের। এতে চরম কষ্টের মুখে পড়েছ মানুষ।

এর আগের (বুধবার ১৯ অক্টোবর) ভোরে
উজানের পাহাড়ী ঢলে তিস্তার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় তিস্তা ব্যরাজের ৪৪টি গেট খুলে পানি নিয়ন্ত্রণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এদিকে তিস্তার প্রবল স্রোতে পাকা রাস্তা ঘরবাড়ি রাস্তা ঘাট ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে।

ভুক্তভোগী এক প্রতিবন্ধীর স্বজন দেলোয়ার বলেন, আমার মেয়েটিকে রংপুর ক্লিনিকে সিজার করতে হবে কিন্তু রাস্তা ভাঙ্গার কারনে যেতে পারছি না তাই দুজন দুই হাত ধরে হেটে যেতে রাস্তা ভাঙ্গা পাড় হচ্ছি।

ভোটমারী এলাকার মেরিনা বেগম বলেন, আমার স্বামীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে দিয়েছি টাকা নেই তাই এই ভাঙ্গা রাস্তা পার হয়ে বাড়ি গিয়ে টাকা আনতে যাচ্ছি রাস্তা ভাঙ্গার কারনে দূর্ভোগে পড়েছি।

তুষভান্ডার এলাকার বাসিন্দা নাসিরুল ইসলাম মন্ডল জানান,এই সড়কটি তিস্তা নদীতে বিলীন হওয়া আমাদের যাতায়াতের জন্য খুবই কষ্ট হয়ে পড়ছে। আমরা চাই এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার করার জন্য। এই সড়কটা দিয়ে রংপুর এবং লালমনিরহাটের হাজার হাজার মানুষ চলাচল করেন।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মিজানুর রহমান জানান, আমরা বন্যা এলাকা ভাঙ্গন ও সংস্কার রোধে কাজ করছি।

কাকিনা-মহিপুর-রংপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক ভাঙ্গনের বিষয়ে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌলশী আশরাফ আলী খান বলেন, এই রোডটি দিয়ে  রংপুর-লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার লোকজন যাতায়াত করে। এটি একটি ব্যস্ততম রোড। তবে হঠাৎ করেই তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর পানি লোকালয়ে ডুকে যায়। এতে এ মহাসড়কটি পানির চাপে ভেঙ্গে যায়। আমরা রোডটি সংস্কারে কাজ করায় আপাতত সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন,আগামীকাল শনিবার থেকে ধসে যাওয়ার রাস্তা সংস্কারের কাজ চলবে।

এদিকে শুক্রবার (২২ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মোঃ এনামুর রহমান এমপি কাকিনা রংপুর সড়কটি পরিদর্শন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.