করোনার অজুহাতে বিএনপির সভা-সমাবেশ বন্ধ করার পাঁয়তারা চলছে

করোনার অজুহাতে বিএনপির সভা-সমাবেশ বন্ধ করার পাঁয়তারা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাস।

বুধবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে রংপুর নগরীর বুড়িরহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সমাবেশে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘বরিশাল, হবিগঞ্জ ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আমাদের সমাবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে, রাবার বুলেট ছোড়া হচ্ছে। দলীয় নেতাকর্মীরা আহত হচ্ছেন। কিছু হলেই গুলি করা হচ্ছে, ১৪৪ ধারা জারি করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘একাত্তরে যেভাবে বাংলাদেশের মানুষ ১৪৪ ধারা জারি ভঙ্গ করে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল, একইভাবে এ দেশের মানুষ ১৪৪ ধারা ভাঙতে শিখেছে। সুতরাং বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন আপনারা আটকাতে পারবেন না। আপনারা যত বাধা দেবেন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন তত ত্বরান্বিত হবে।’

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘যখন দেখছেন জনগণ ১৪৪ ধারা ভাঙছে ঠিক তখনই আপনারা করোনার দোহাই দিয়ে মিটিং-মিছিল বন্ধ রাখছেন। বইমেলা চলছে, বাণিজ্যমেলা বন্ধ নেই, নির্বাচন বন্ধ নেই। সব চলবে, শুধু বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনের মিটিং-মিছিল চলবে না-এটাতো হতে পারে না। এটা হতে দেব না। অবশ্যই করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ হলে আমরা তা মানবো। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি সে পর্যায়ে যায়নি। সত্যি সত্যি করোনা বেড়ে গেলে আমরা এ দেশকে, এ দেশের মানুষকে ভালোবেসে অবশ্যই তা বন্ধ রাখবো। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, আমাদের আন্দোলন থেমে যাবে। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন চলবে, আন্দোলন থামবে না।’

তিনি বলেন, শুধু বিএনপি নয়, ‘বাংলাদেশের মানুষ খালেদা জিয়ার মুক্তি চায়। খালেদা জিয়াকে আটকে রেখে তিলে তিলে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র চলছে। আমরা বলতে চাই, যদি বেগম খালেদা জিয়ার সামান্যতম কোনো ক্ষতি হয় তাহলে এ দেশের মাটিতে আওয়ামী লীগকে খুঁজে পাওয়া যাবে না।’

বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘মাফিয়ারা দেশ চালাচ্ছে। ফাঁসির আসামিদের মুক্তি দিয়ে বিদেশে পাঠানো হয় অথচ বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়া যায় না।’

রংপুর জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) আব্দুল খালেক ও সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি চৌধুরী মহেবুল্লাহ আবু নুর, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বকুল, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা হাবিবা ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মামুন খান উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.