কালীগঞ্জে ইউপি সদস্যের টর্চারসেলে নির্যাতনে যুবকের মৃত্যু,ঘটনাস্থলে এসপি

লালমনিরহাট প্রতিনিধি।।

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে ইউপি সদস্যের নির্যাতনের শিকার যুবকের মৃত্যু হওয়ার ঘটনায় স্থলে আসেন এসপি।

মঙ্গলবার (১৮জানুয়ারী) সন্ধায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন মামলার তদন্ত ও তদারকিতে গিয়েছিলেন লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা (বিপিএম,পিপিএম)।

জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত ইউপি সদস্যের টর্চার সেলে নির্যাতিত হওয়া যুবক পার্শ্ববর্তী আদিতমারী উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের মদনপুর গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে আনোয়ারুল ইসলাম (৩০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচারের দাবিতে নিহত আনোয়ারুলের মরদেহ নিয়ে মহাসড়ক অবরোধও করেছিলেন স্থানীয়রা।পরে পুলিশের আশ্বাসে সড়ক অবরোধ তুলে নেয় তারা।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ৫ম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকালীন সময়ে কালীগঞ্জ উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রার্থী মোজ্জাম্মেল হককে দেড় লাখ টাকা ধার দেন আনোয়ারুল। নির্বাচনে জয়লাভের পর সেই টাকা পরিশোধ করতে চাপ দেন তিনি। এ সময় টাকা না দিয়ে তাকে ভয়ভীতি দেখান মোজাম্মেল। এর মধ্যে গত ৪ জানুয়ারি টাকা দেয়ার কথা বলে আনোয়ারুলকে নিজ বাড়িতে ডেকে নেন মোজাম্মেল। এরপর নিজের টর্চার সেলে আটকে রেখে দুই দিন অমানুষিক নির্যাতন করেন।বিষয়টি বুঝতে পেরে ইউপি সদস্যের বাড়িতে আনোয়ারুলকে উদ্ধার করতে গেলে আটকে রাখা হয় তার প্রতিবেশী রোকনুজ্জামানকেও। পরে তার ওপরও অমানুষিক নির্যাতন চলে। এরপর ৬ জানুয়ারি আনোয়ারুলের পরিবারের সদস্যরা ৯৯৯ নম্বরে কল করলে পুলিশ মোজাম্মেলের বাড়িতে গিয়ে তল্লাশি চালায়। এ সময় আনোয়ারুলের মোটরসাইকেল উদ্ধার করে তারা। এর মধ্যে মূমুর্ষ আনোয়ারুল ও রোকনুজ্জামানকে স্থানীয় তেতুলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ফেলে সটকে পড়েন অপহরণকারীরা। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেলে ভর্তি করে। আহত আনোয়ারুলের মাথাসহ সারা শরীরে অসংখ্য লোহার পেরেক লাগানো ছিল। হাসপাতালে নিজের ওপর হওয়া অমানুষিক নির্যাতনের বর্ণনাও দেন আনোয়ারুল।

নির্যাতনের শিকার আনারুলের স্ত্রী বাদী হয়ে ঘটনার রাতেই নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য মোজাম্মেল, তার ছোট ভাই মোশারাফ হোসেন ভুট্টু ও ছেলে সুজনসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ১১ জানুয়ারি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন মোজাম্মেল ও তার ছোট ভাই। কিন্তু আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ইউপি সদস্যের টর্চারসেলে নির্যাতন ও নির্যাতনের শিকার যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা(বিপিএম,পিপিএম) ঘটনাস্থল পরিদর্শন মামলার তদন্ত ও তদারকিতে যান। ঘটনাস্থলে নিহত আনারুলের স্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয়দের সাথে কথা বলেন তিনি। এসময় ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচারের জন্য পুলিশ সুপারের নিকট দাবি জানায় তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.