ফুলছড়িতে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার জমি ভোগদখলে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের কাতলামারি গ্রামে এক যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধার জমি ভোগদখলে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে ফুলছড়ি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মো. আনছার আলী সরকার।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ১৯ জানুয়ারি দুপুরে ফুলছড়ির গজারিয়া ইউনিয়নের কাতলামারি গ্রামে মো. আনছার আলী সরকারের ছেলে মো. নুরুল আমিন রতন (৩৫) নিজ জমিতে কাজ করছিলেন। এসময় একই গ্রামের মধু বেপারী (৫৫), অদু বেপারী (৫০), মো. দুদু মিয়া (৬০), মধু বেপারীর ছেলে লিটন বেপারী (৩২) ও ঠান্ডা মিয়া (৩০), অদু বেপারীর ছেলে মো. লায়ন মিয়া (২৫) এবং মো. দুদু মিয়ার ছেলে উজ্জ্বল বেপারী (৩৪) পূর্বপরিকল্পিতভাবে নুরুল আমিন রতনের উপর হামলা চালান। তারা দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড, ছুরি ও বাঁশের লাঠির আঘাতে তাকে গুরুতর আহত করেন।

এসময় তারা নুরুল আমিন রতনের কাছে থাকা এক লক্ষ ২৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এসময় মধু বেপারী, অদু বেপারী ও মো. দুদু মিয়াসহ তাদের ছেলেরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বলেন, মো. আনছার আলী সরকার এই জমি চাষাবাদ করতে পারবে না ও আমরা নিজেরাই ভোগদখল করবো।

এসময় নুরুল আমিন রতনের চিৎকারে কাতলামারী গ্রামের ননী মহন দাস (৬০), বিমল চন্দ্র (৫১), পচু চন্দ্র (৫৮) ও আজিম উদ্দিনসহ (৬২) আরও অনেকে এগিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। শুধু তাই নয়, আজ বেঁচে গেলি ভবিষ্যতে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন মধু বেপারী, অদু বেপারী ও মো. দুদু মিয়াসহ তাদের ছেলেরা।

এ ঘটনায় পরদিন ২০ জানুয়ারি ফুলছড়ি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মো. আনছার আলী সরকার।

যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মো. আনছার আলী সরকার বলেন, নিজের জমিতে এখন নিজেরাই যেতে পারছি না। বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এর আগে জমি রক্ষা ও পরিবারের নিরাপত্তার দাবিতে প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনও করেছি। থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। তারপরও তাদের থামানো যাচ্ছে না।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মধু বেপারীসহ অন্যান্যরা বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমরা সেধরনের মানুষই নই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.