দিনাজপুরে পাওনা টাকার জেরে গলাকেটে হত্যা করা হয় স্কুলছাত্রকে

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে স্কুলছাত্র রিসফু হু ইয়া ইয়া ওরফে রিসান (১৬) হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূলহোতাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। রোববার (৩০ জানুয়ারি) ঘোড়াঘাট থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন-ঘোড়াঘাট থানা এলাকার বিল্লাল উদ্দিনের ছেলে স্বাধীন উদ্দিন (২৯) ও দুই কিশোর। দুই কিশোরের বয়স যথাক্রমে ১৪ ও ১৬ বছর।

সোমবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে র‌্যাব-১৩ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান উপ-অধিনায়ক মেজর সৈয়দ মইদুল ইসলাম।

র‌্যাব জানায়, দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট থানার কশিগাড়ী গ্রামের পাঁচমাথা মোড়ের কাছে পরিত্যক্ত একটি হোটেলে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের পায়ের রগ ও গলা কেটে করে হত্যা করে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। শনিবার (২৯ জানুয়ারি) ঘটনাটি জানাজানি হয়। ওইদিন ঘটনাটি একই এলাকার রুমিজা খাতুনের (৪১) কাছে পৌঁছালে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং মরদেহটি তার একমাত্র ছেলে রিসফু হু ইয়া ইয়া ওরফে রিসানের বলে শনাক্ত করেন।

এসময় রুমিজা খাতুন জানান, তার ছেলে দিনাজপুরের রাণীগঞ্জ বাজারে অবস্থিত আল-হেরা ইসলামী প্রি-ক্যাডেট স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করতো। পড়াশোনার পাশাপাশি রাণীগঞ্জ বাজারে একটি ভ্রাম্যমাণ খাবার হোটেলে পার্টটাইম কাজ করতো। শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে বাবার ওষুধ আনার জন্য রানীগঞ্জ বাজারের উদ্দেশ্যে বের হয় রিসফু। এরপর দীর্ঘসময় চলে গেলেও সে বাসায় না ফেরায় তার জন্য অপেক্ষা করতে করতে বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে পড়েন।

পরেরদিন সকালে লোকজনের মুখে শুনে ওই স্থানে গিয়ে ছেলের মরদেহ দেখতে পান রুমিজা। এ ঘটনায় শনিবার অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় মামলা করেন তিনি।

এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে র‌্যাব-১৩। তদন্তের একপর্যায়ে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিভিন্ন জায়গা থেকে চাঞ্চল্যকর ওই কিশোর হত্যার রহস্য উদঘাটন করে র‌্যাব। একই সঙ্গে হত্যার সঙ্গে জড়িত আসামি স্বাধীন উদ্দিন এবং তার সহযোগী দুই কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী স্বাধীন উদ্দিন স্বীকার করেছেন, তিনি ১০ মাস আগে রিসানকে প্রতি মাসে সুদের বিনিময়ে টাকা ধার দেন। রিসান প্রথম তিনমাস সুদের টাকা পরিশোধ করলেও পরে সুদের টাকাসহ মূল টাকা দিতে ব্যর্থ হয়। ওই টাকাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় রিসানের সঙ্গে স্বাধীনের দ্বন্দ্ব হয়।

রিসানের পারিবারিক সূত্র থেকে জানা যায়, মায়ের ২০ হাজার টাকা রিসানের কাছে গচ্ছিত ছিল। একথাও জানতো ঘাতকরা। এরই জের ধরে বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) দুই কিশোর সঙ্গীকে নিয়ে রিসানকে হত্যার পরিকল্পনা করেন স্বাধীন উদ্দিন। পরিকল্পনা অনুযায়ী শুক্রবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে রিসানকে রাণীগঞ্জ বাজারে পানের দোকানে ডেকে নিয়ে আসে ওই দুই কিশোর।

তাদের দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট থানার কশিগাড়ী গ্রামের পাঁচমাথা মোড়ের কাছে পরিত্যক্ত হোটেলে যেতে বলেন স্বাধীন। এর কিছুক্ষণ পরে স্বাধীন তার পানের দোকান বন্ধ করে সোয়া ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে রিসানের কাছে পাওনা টাকা চান। টাকা না পেয়ে রাগান্বিত হয়ে তার সঙ্গে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে রিসানের গলা কাটেন স্বাধীন।

এসময় রিসান চিৎকার করলে স্বাধীনের এক কিশোর মুখের ভেতর বালু দিয়ে চেপে ধরে। অপর কিশোর তার হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে পায়ের রগ কেটে দেয়। পরে রাত পৌনে ১১টার দিকে রিসানকে রেখে তারা পালিয়ে যান।

গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন বলে জানান র‌্যাব কর্মকর্তা মইদুল ইসলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published.