কর্মসৃজন প্রকল্প থেকে ভিক্ষুকসহ, অসচ্ছল উপকার ভোরীর নাম বাদ দেওয়ায় অভিযোগ 

কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী)প্রতিনিধিঃ
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার কর্মসৃজন প্রকল্প (ইজিপিপি) থেকে ভিক্ষুক, স্বামী পরিত্যাক্তা ও অসচ্ছল উপকার ভোগির নাম বাদ দিয়ে টাকার বিনিময়ে নতুন কর্মবীর নাম দিয়ে তালিকা করায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত ভাবে অভিযোগ করেছেন বিভিন্ন ইউনিয়নের উপকার ভোগির।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কর্মসৃজন প্রকল্প থেকে ভিক্ষুক, স্বামী পরিত্যাক্তা ও অসচ্ছল কর্মীর নাম বাদ দিয়ে নতুন করে তালিকা তৈরি করেছে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও সচিব ও মেম্বাররা। নতুন করে যে সব নাম যুক্ত হয়েছে তাদের কাছ থেকে দশ হাজার ও পুরাতন যাদের নাম আছে তাদের কাজ থেকে পাঁচ হাজার করে টাকা নিয়ে তালিকায় নাম দিয়েছে।
এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ উপজেলার ২ নং পুটিমারী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের স্বামী পরিত্যাক্তা মিনারা বেগম পিতাঃ একরামুল হক পুরাতন কর্মী ছিল। তার নাম তালিকায় না দেওয়ায় সে চেয়ারম্যানের কাছে গেলে তিনি বলেন তুইতো পাঁচ বছর কাঁটলু এলা অন্য গিলা কাঁটুক।
উপজেলা ৩ নং নিতাই ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের ভিক্ষুক নাজমা বেগম পিতাঃ মৃত রহিম উল্লাহ পূর্ব ফরুয়া দরগা পাড়া, তিনি সরকার থেকে ভিক্ষুকের একটি ঘর পেয়েছেন ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে। সে সময়কার উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব সিদ্দিকুর রহমান দায়িত্বে ছিলেন। তিনি প্রথম বাংলাদেশের মধ্য কিশোরগঞ্জ উপজেলাকে ভিক্ষুক মুক্ত উপজেলা হিসাবে ঘোষনা করেন। এবং একই ওয়ার্ডের অসচ্ছল কর্মী খুলনা বেগম পিতাঃ মৃত তমছের আলী পূর্ব ফরুয়া তেলিপাড়া গ্রামের পুরাতন কর্মী তারা টাকা দিতে না পাড়ায় তাদের নাম বাদ দিয়ে তালিকা করেছে বলে তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত ভাবে অভিযোগ করেছে।
সরকার এবারে (ইজিপিপি) প্রকল্পে শ্রমিকের জন্য বরাদ্ধ বৃদ্ধি করেছে। দুই শত টাকার পরিবর্তে চার শত টাকা করেছে। এর আগে কিশোরগঞ্জ উপজেলার ৮ নং গাড়াগ্রাম ইউনিয়নে প্রায় সহস্রাধিক কর্মসৃজন নারী শ্রমিক মানববন্ধন করেছিল।
 বিভিন্ন ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায়ে গিয়ে জানা  যায় বেশিরভাগ ভাগ পুরোতন ভুক্তভোগীর নাম বাদ দিয়ে মেম্বার, চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য,ইউপি সচিব নতুন তালিকায় নাম দেয়ার জন্য প্রত্যেক কর্মীর কাছ থেকে আট থেকে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন।
চাঁদখানা ইউনিয়নের ৩নং ওর্য়াডের চাঁদখানা চরকবন গ্রামের সাধারণ সদস্য মন্টু মিয়া তার ওর্য়াডের একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধি চম্পা বেগম (৩৮) শারীরিক ভাবে কর্মক্ষম হলেও তার নাম বাদ দিয়ে ইজিপিপির তালিক করেছে। একই গ্রামের আরো কিছু ব্যাক্তি ও মহিলা নাম না প্রকাশ করার শর্তে তারা বলেন আমরা কি বড়লোক মানুষ যে, এতগুলো টাকা দিতে পারবো। মেম্বার, চেয়ারম্যান ও সচিব সবার কাছে গিয়েছি তারা সকলে একই কথা বলেন।
তারা বলেন, আমরা গরীব মানুষ তাই আমাদের নাম বাদ দিয়ে টাকার বিনিময়ে নতুন সদস্য নিচ্ছে।আমদের এর আগে যে স্যার কাজ দেখা শোনা করতেন তার মুখে শুনেছি যে, মৃত না হওয়া পর্যন্ত আমারদের নাম নাকি কর্তন করতে পারবে না। তা হলে তারা কি ভাবে আমাদের নাম পরিবর্তন করলো।
চাঁদখানা চরকবন গ্রামের মহুজা, আয়শা, কাল্টি,সাহিদা সহ আরোও অনেকে অভিযোগ করে বলেন, আমারা দীর্ঘদিন থেকে ২শত টাকায় কাজ করেছি। এখন ৪শত টাকা মজুরি হওয়ায় আমাদেরকে বাদ দিয়ে সংশ্লিষ্ট সচিব, মেম্বার ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য, চেয়ারম্যান দালালের মাধ্যমে টাকা নিয়ে তালিকায় নাম দিচ্ছে।
আমরা পুরাতন শ্রমিক কাজ করতে চাই। কাজ না পেলে সন্তানাদি নিয়ে আমরা কোথায় যাব, কি খাবো আমরা সরকারী অন্য কোন সুবিধা পাই না। তার পরেও আমাদের নাম বাদ দিয়েছে।
এ ব্যাপারে চাঁদখানা  ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন আমার ইউনিয়নে ভোট দেরিতে হওয়ায় এসব হয়েছে। তিনি পুরাতন কর্মীদের বহাল রাখার আশ্বাস দেন।
এ ব্যাপারে পুটিমারী ইউপি চেয়ারম্যান আবু সায়েম লিটনকে তার মুঠোফোনে কয়েকবার ফোন করলেও তিনি রিসিব না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে নিতাই ইউপি চেয়ারম্যান মোত্তাকিনুন রহমান আবু তার মুঠোফোনেও কয়েকবার ফোন করলেও তিনি রিসিব না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্থবায়ন অফিসার আবু হাসনাতের সাথে কথা হলে তিনি বলেন নামগুলো পাঠিয়ে দেন আমি ঠিক করার ব্যবস্থা করছি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-ই-আলম সিদ্দিকীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, লিখিত ভাবে অভিযোগ দিতে বলেন। আমি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published.