হাতীবান্ধায় ভাই-ভাতিজার লাঠির আঘাতে হাসপাতালে অসুস্থ বৃদ্ধ

 

হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি:
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ছাগল বেধে রাখতে বলায় অসহায় অসুস্থ বৃদ্ধ মজিদুল ইসলাম(৫৫)কে মারধর করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে তারই বেমাতা ভাই ও ভাতিজার বিরুদ্ধে। আহত ওই বৃদ্ধ বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন।

শুক্রবার (০৪ মার্চ) রাতে আহত মজিদুল ইসলাম বাদী হয়ে হাতীবান্ধা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের উত্তর জাওরানী গ্রামের বটতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বৃদ্ধকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন, উপজেলার ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের একই এলাকার মফিজুল ইসলাম(৩৫), তার স্ত্রী মাজেদা(৩০) ও ছেলে মাসুম(২২)।

আহত ওই ব্যক্তি উপজেলার ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের ওই এলাকার মৃত জমির বকসের ছেলে ও অভিযুক্ত মফিজুলের বেমাতা ভাই মজিদুল।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে ভুক্তভোগীর আপন ভাই আবুল হোসেনের ধান ক্ষেতে ভুক্তভোগীর বেমাতা ভাই অভিযুক্ত মফিজুলের ছাগল নেমে ধান খেত নষ্ট করতেছিলো। তা দেখে আবুল হোসেন গালিগালাজ করে এবং তার পত্রবধু ওই ছাগলটিকে ধরে মফিজুলের বাড়িতে দিয়ে আসে। এ সময় তাদেরকে ছাগল বেধে রাখতে বলেন। পরে বিকেলে আবুল হোসেন ও তার অসুস্থ ভাই মজিদুল এক সাথে বাড়ি থেকে বের হয়ে বাজারে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে মফিজুলের বাড়ির সামনে বটতলা এলাকায় মফিজুল তার স্ত্রী ও ছেলে তাদের পথ রোধ করে গালিগালাজ শুরু করে। এতে আবুল হোসেন প্রতিবাদ করলে তারা লাঠি দিয়ে আবুল হোসেনকে মারধর শুরু করে। তা দেখে অসুস্থ ভাই মজিদুল বাধা দেয়। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওই অসুস্থ মজিদুলকেও লাঠি দিয়ে বেধরড় পিটিয়ে আহত করে।

শুক্রবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, অসুস্থ্য বৃদ্ধ মজিদুল আহত অবস্থায় হাসপাতালের বেডে শুয়ে ব্যাথার যন্ত্রনায় ছটফট করছে। আর তার পাশেই বসে অপলক ছলছল চোখে ছোট ভাইয়ের দিয়ে তাকিয়ে আছে আবুল হোসেন। এ সময় কথা বলতে চাইলে কেঁদে ফেলেন আহত মজিদুল। তিনি বলেন, আমি ও আমার ভাই বাজারে যাচ্ছিলাম। তারা পথ রোধ করে গালিগালাজ শুরু করে। এতে বড় ভাই প্রতিবাদ করেন। ফলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠি দিয়ে মারতে আসে। আমি তাই এগিয়ে যাই আর বাধা দেই। তখন তারা লাঠি দিয়ে আমাকে মারতে থাকে। আমি তাদের বিচার চাই।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মফিজুলের ছেলে মাসুম বলেন, একটা পারিবারিক বিষয়ে শুধু কথা কাটাকাটি হয়েছে মাত্র। আমরা তাদের মারধর করিনি।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক উপসহকারী কমিনিউটি মেডিকেল অফিসার ডা. আকমিলা বলেন, আহত ওই ব্যক্তি শরীরে আঘাতের চিহৃ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ওনাকে ভর্তি করনো হয়েছে। এছাড়া ওনাকে সব রকম চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদুল আলম বলেন, বিষয়টি জানা নেই। তবে অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া আমি হাসপাতালে পুলিশ পাঠাচ্ছি ওই ব্যক্তির খোঁজ খবর নিতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.