২০২৩ সালে আসছে গ্যাস, স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে রংপুরবাসীর 

কৃষি প্রধান রংপুর অঞ্চলে ভাতের অভাব না থাকলেও আছে ভারী শিল্পের অভাব। কৃষকরাই তাদের ঘাম ঝরিয়ে এই অঞ্চল এগিয়ে নিয়েছেন। আর নানা প্রতিকূলতায় যুদ্ধ করে উদ্যোক্তারা এগিয়ে নিয়েছেন ছোট ও মাঝারি শিল্প দিয়ে। তবে সেই কষ্টের দিন শেষ হতে বসেছে। স্বপ্নপূরণ হতে যাচ্ছে রংপুরবাসীর।

২০২৩ সালের জুনে রংপুরবাসী পাচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত প্রাকৃতিক গ্যাস। সরবরাহ শুরু হলে এই অঞ্চলে শিল্প বিপ্লব ঘটবে-এমন আশায় বুক বেঁধেছেন ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা।

গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল) জানিয়েছে, বগুড়া থেকে পীরগঞ্জ হয়ে রংপুর ও সৈয়দপুর পর্যন্ত পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের কাজ শুরু হয়েছে ২০১৮ সালের অক্টোবরের দিকে। এই প্রকল্প ২০২৩ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এক হাজার ৩৬৮ কোটি ৫২ লাখ ব্যয় হবে এই প্রকল্পে। জিটিসিএল এখানে ১০ কোটি তিন লাখ টাকা খরচ করবে। বাদবাকি টাকা দেবে সরকার।

পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের জন্য ৩০৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া হুকুম দখল করা হয়েছে ৫৭৬ দশমিক ৩৭ একর জমি। ৩০ ইঞ্চি ব্যাসার্ধে ১৫০ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপনের কাজ চলছে। এই গ্যাস সরবরাহে ছয়টি নদী ও দুইটি খাল পাড়ি দিতে হবে। এসব নদী ও খালের দূরত্ব আড়াই কিলোমিটার।

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বলদিপুকুর এলাকায় চলছে গ্যাস সরবরাহ লাইনের কর্মযজ্ঞ। মঙ্গলবার (০৮ মার্চ) বিকালে গ্যাস সঞ্চালন লাইন স্থাপনের কাজ উদ্বোধন করা হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রাথমিক পর্যায়ে শিল্প কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করা হবে। বাসা-বাড়িতে আপাতত গ্যাস সরবরাহ নাও হতে পারে। তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রথম থেকেই শিল্প-কারখানার পাশাপাশি বাসা-বাড়িতেও গ্যাস সরবরাহ করা হোক।

এই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক খন্দকার আরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রকল্পের কাজ ৫০ শতাংশ শেষ হয়েছে। আগামী বছরের জুন নাগাদ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন, প্রাথমিক অবস্থায় কারা কারা গ্যাস পাবেন এই বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রংপুর বিভাগে গ্যাস পাইপলাইন স্থাপনের কাজ শুরু হওয়ায় ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা আনন্দিত। রংপুরবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল এই অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহের। পিছিয়ে পড়া অঞ্চল হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ হলে নতুন নতুন শিল্প-কারাখানা এবং বিসিক এলাকার শিল্প করখানার পণ্যের উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি অর্থনীতির চালিকাশক্তিতে নতুন গতি পাবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

রংপুর চেম্বারের সভাপতি মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী টিটু জানিয়েছেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এই অঞ্চলের আর্থসামাজিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটবে। দূর হবে দারিদ্র্যতার বৈষম্য। পীরগঞ্জ থেকে সৈয়দপুর পর্যন্ত মহাসড়কের পাশে অনেক দেশি-বিদেশী শিল্পোদ্যোক্তা শিল্প প্লট ক্রয় করে গ্যাসের জন্য অপেক্ষায় আছেন।

রংপুর মহানগর চেম্বারর সভাপতি রেজাউল ইসলাম মিলন জানিয়েছেন, গ্যাস এলেই এই অঞ্চলে শিল্প বিপ্লব ঘটবে। এছাড়া প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ রংপুরের গঙ্গাচড়ার মহিপুর এলাকায় এক হাজার একর জমির উপর বিসিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক ও রংপুরের সকল উপজেলার শিল্পকারখানায় পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সংযোগের মাধ্যমে আর্থ সামাজিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন হবে।

সেই সাথে পরিবহন পরিবহন খাতেও ঘটবে বিপ্লব। সিএনজি পাম্পে গ্যাস সংযোগ পেলে খরচ কমবে পরিবহনখাতে। বাড়বে শ্রমিকের মজুরী। ব্যবসায় নতুন উদ্যোক্তাও তৈরি হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.