জমি বন্ধক রাখা টাকা দিয়ে  মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেলেন তিস্তা চরের দুলাল

লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান ইউনিয়নের তিস্তা পাড়ের নিজ শেখ সুন্দর গ্রামের হতদরিদ্র কৃষকের ছেলে জমি বন্ধক রাখা টাকা দিয়ে পড়াশোনা করে এবার মেডিকেলে কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।তার এমন সাফল্যের বাবা ও ভাইসহ গোটা তিস্তাচর বাসী আনন্দিত।
২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে সে ৮৩.৫ পেয়ে ঢাকা স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন দুলাল হোসেন।
দুলাল হোসেন হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান ইউনিয়নের নিজ শেখ সুন্দর গ্রামের ৬ নং ওয়ার্ডের আবুল হোসেনের ছেলে। বাবা সামান্য কৃষক। তারপরও অদম্য ইচ্ছায় লেখাপড়ায় উৎসাহ দিয়ে আসছেন তিনি।
অভাবের সংসার। জায়গা-জমি বলতে তিস্তার চরে রয়েছে মাত্র ১০ বিঘা জমি। তিস্তার বাঁধের ধারে তাদের বাড়ি। বাড়ি ভিটার জায়গা সরকারি পানি উন্নয়ন বোর্ডের। সেখানেই তাদের বসবাস।
দুলাল হোসেন চার ভাই এক বোনের মধ্যে সে তৃতীয়। বড় দুই ভাই আব্দুস সবুর ও স্বপন আলী ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা চালান। এক বোনের বিয়ে দিয়েছেন অন্যত্র। মা গত ২০২০ সালে মারা যান। সবার ছোট ভাই মমিনুল ইসলাম সপ্তম শ্রেণীতে পড়েন দোয়ানি উচ্চ বিদ্যালয়ে।
দুলাল হোসেন হাতীবান্ধা সরকারি আলিমুদ্দিন ডিগ্রী কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসিতে  জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এর  আগে সে দোয়ানি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে জিপিএ ৪.৮৯ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। ছোট থেকেই  অদম্য মেধাবী ছিল দুলাল।
দুলাল হোসেনের বাবা আবুল হোসেন বলেন,ছেলেকে অনেক কষ্টে পড়াশোনা করিয়েছি। ছেলের পড়াশোনা করতে গিয়ে ১ বিঘা জমি ৬০ হাজার টাকায় বন্ধক  দিয়েছি।আমার ছেলে আমার আশা পূরণ করেছে। আপনারা আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন।
দুলাল হোসেন বলেন,দারিদ্রতার কষাঘাতে পড়াশুনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল আমার। একসময় ভেবেছি আর আমার দ্বারা পড়া শুনা হবে না। এরমধ্যে মা চলে গেছে ওপারে। আবারো হতাশ হয়ে পড়েছি। দারিদ্রতার মাঝে স্যারদের সহযোগিতায় আবারও পড়াশোনা শুরু করি। হাতীবান্ধা সরকারি আলিমুদ্দিন ডিগ্রী কলেজে ভর্তির পর তিন থেকে চারটি টিউশনি নেই। প্রতি মাসে তিন থেকে চার হাজার টাকা আসতো তা দিয়ে পড়াশোনার খরচ চালাতাম। টাকার অভাবে প্রাইভেট পড়া হয়নি আমার।বাড়িতে এসে একা একা গভীর রাত পর্যন্ত পড়াশোনা করি।
এরপর এইচএসসি পাশ করলাম জিপিএ ৫ নিয়ে। বাবার ইচ্ছায় মেডিকেলে পড়ানোর। কিন্তু বাবার হাতে কোন অর্থ নেই।  তখন বাবা এক বিঘা জমি ৬০ হাজার টাকা বন্ধক রেখে আমার হাতে তুলে দেন। সে টাকা দিয়েই শুরু করি পড়াশুনা।
অভাব-অনটনের সংসারে অনেক ইচ্ছাই পূরণ হয়নি। কষ্ট করে পড়ালেখা চালিয়ে আসছি। আমার ইচ্ছে ছিল প্রকৌশলী  হওয়ার কিন্তু বাবার ইচ্ছা মেডিকেলে পড়ানোর। আজ আমার বাবার ইচ্ছে পূরণ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন,ডাক্তার হওয়ার পর অসহায় গরীব মানুষদের বেশি প্রাধান্য দেব। গরিব মানুষের পাশে থাকবো।
হাতীবান্ধা সরকারী আলিমুদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত প্রভাষক শরিফুল ইসলাম জানান,সে অদম্য মেধাবী ছাত্র আমার ছাত্রাবাসে তার অর্ধেক ভাড়া নিয়ে নিতাম। সে অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করে আজ সাফল্যের মুখ দেখেছে আমি তার সাফল্য কামনা করি।
সানিয়াজান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হাসেম তালুকদার জাগো নিউজকে জানান,তিস্তারচর এলাকা থেকে এই প্রথম একজন ছাত্র সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চান্স পেয়েছে আমরা তার সাফল্য কামনা করি। তিনি আরও বলেন, তার এই কৃতিত্বের আমাদের ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তাকে সংবর্ধনা প্রদান করা হবে।