বড় স্নানোৎসবে লাখো মানুষের ঢল

কুড়িগ্রামের চিলমারীর ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বড় স্নানোৎসব অষ্টমীর স্নান ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৮ এপ্রিল) রাত ৯টা ১২ মিনিট থেকে শনিবার (৯ এপ্রিল) রাত ১১টা ৮ মিনিট পর্যন্ত স্নানের অষ্টমীর শুভ তিথি ছিল। তবে শনিবার বেলা সোয়া ১১টা পর্যন্ত চৈত্রমাসের শুক্লপক্ষের উত্তম তিথি থাকায় বেশিরভাগ পুণ্যার্থী এই সময়ে স্নান সেরে নেন। স্নান শেষে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন পুণ্যার্থীরা।

উত্তরবঙ্গের অষ্টমীর স্নানের জন্য চিলমারীর এই স্থান বিখ্যাত। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পুণ্যার্থীরা এখানে আসেন নিজেদের পাপকে বিসর্জন দিতে। প্রতিবছর ব্রহ্মপুত্রের ছয় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। স্নানোৎসব ঘিরে মেলাও বসে।

ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে পুণ্যার্থীরা স্নান সম্পন্ন করেন। অনেকে নিজেদের পূর্ব-পুরুষদের উদ্দেশে মাথা ন্যাড়া করে পিণ্ড দান করেন।

অষ্টমীর স্নানে অংশ নেওয়া লালমনিরহাট থেকে আসা অবিনাশ রায় বলেন, ‘এখানে স্নান করার মাধ্যমে আমরা জীবনের পাপকে ধুয়ে পবিত্রতা অর্জন করি। স্রষ্টা আমাদের অতীতের পাপ থেকে মুক্ত করবেন। এজন্যই এসেছি।’

রংপুর থেকে আসা আরেক পুণ্যার্থী চৈতী রানি বলেন, ‘প্রচুর লোকের সমাগমে যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তাতে কিছুটা হলেও শৃঙ্খলা বজায় ছিল। তবে অষ্টমীর স্নানের জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা হলে আমাদের জন্য ভালো হয়।’

স্থানীয় প্রশাসনের মতে, প্রায় তিন থেকে চার লাখ পুণ্যার্থী সববেত হয়েছেন ব্রহ্মপুত্র তীরে। স্নান ও মেলা এলাকাজুড়ে স্থানীয় প্রশাসন ও কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিস্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়।

মেলা ও ব্রক্ষপুত্র স্নান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে মেলাস্থলে বসানো হয় কন্ট্রোল রুম। দূর-দূরান্তের পুণ্যার্থীরা যাতে নিরাপদে রাত্রিযাপন করতে পারেন সেজন্য উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়।

চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবুর রহমান বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের তীরজুড়ে কয়েক লাখ পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটলেও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। গতকাল থেকে মেলা ও স্নান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।