কালীগঞ্জে মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে নিয়োগ বানিজ্য ও অর্থ আত্মসাৎতের অভিযোগ 

লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার গোড়ল দাখিল মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে নিয়োগ লবানিজ্য এবং প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাত করার অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিষ্ঠানটিতে পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকদের পক্ষে সাবেক অভিভাবক সদস্য বাবুল মিয়া এমন অভিযোগ তুলে গোড়ল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, কালীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক অফিসার,লালমনিরহাট জেলা শিক্ষা অফিসার,লালমনিরহাট জেলা প্রসাশক,আঞ্চলিক অফিস দুদক রংপুরের পরিচালক, মাদরাসা অধিদপ্তরের চেয়ারম্যান এবং প্রেস ক্লাব, লালমনিরহাট বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোড়ল দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোবাশ্বের আহম্মেদ দীর্ঘদিন যাবত বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতি করে মাদ্রাসা পরিচালনা করে আসছে। প্রতিষ্ঠানে জনবল নিয়োগ বানিজ্য সহ প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় অর্থ আত্বসাত করে আসছিলেন। এছাড়াও মাদরাসাটিতে সদ্য যোগদানকৃত (এন টি আর সি)এর সুপারিশকৃত শিক্ষকের নিকট থেকেও কৌশলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি।
গত বছরের ১৮ মার্চ মাদরাসায় আয়া, নিরাপত্তা প্রহরী ও পিয়ন পদে নিয়োগ দিয়ে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া কথা উল্লেখ করা হয় অভিযোগে। যা কমিটিতে থাকা অধিকাংশ সদস্য অবগত নয়। করোনা কালীন সময়ে এ্যাসাইনমেন্টের নামে গরিব ও অসহায় ছাত্র/ছাত্রীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে আত্মসাত করা সরকারের দেওয়া বিনামূল্যের বই বিতরনের সময় ছাত্র/ছাত্রীদের নিকট থেকে টাকা আদায়, ফরম পুরনের সময় সরকারের নির্ধারিত ফি-এর চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়, মাদরাসার শিক্ষকদের টাইমস্কেল বাবদ অফিসে টাকা লাগবে এমন কথা বলে মোটা অংকের টাকা আদায় করেন, বৃত্তি প্রাপ্ত ছাত্রীদের সরকারী বৃত্তির টাকা অন্যায়ভাবে আটক করে আফসাত করার অভিযোগ মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে তোলা হয় । এছাড়া সুপার ২০২২ সালে নির্বাচনী প্রচারনা না করে গোপনে পছন্দমত অসচেতন লোক দিয়ে মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটি গঠন করে যা অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন।
মাদ্রাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রেজোয়ানের পিতা সেকেন্দার আলী জানান,আমি প্রতি বছর ছেলের বইয়ের জন্য ১৫০/২০০ টাকা দেই। এখানে আমার মেয়েও পড়ে।দুজনের জন্যই টাকা দিতে হয় সুপারকে। প্রতিটনাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানান,মাদ্রাসাটির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ সুপার করে। যেকোনো বিষয়ে টাকা দাবি করা হয় শিক্ষার্থীদের নিকট এই দুঃখ নিয়ে বাচ্চাদের সড়িয়ে অন্য প্রতিষ্ঠান দিচ্ছেন। স্থানীয় আশরাফুজ্জামান বলেন,আমার মেয়ে এই প্রতিষ্ঠানে ৫ম শ্রেণিতে বৃত্তি পেয়েছিলো।পরবর্তীতে আমি মেয়েকে অন্য প্রতিষ্ঠানে মাধ্যমিকে ভালো ফলাফল অব্যাহত রাখতে ভর্তি করাই। পরে বৃত্তি টাকা উত্তোলনে গেলে সুপার বলে এই টাকার হকদার আমার মেয়ে নয়।তাহলে বৃত্তি পেয়ে কি লাভ হলো মেয়েটার এমন প্রশ্নের উত্তর পাননি তিনি। প্রতিষ্ঠানটির সাবেক অভিভাবক সদস্য জোবাদুল বলেন,সুপার শুরু থেকেই নানাভাবে টাকা নেয় শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে। এলাকার প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট হবে তাই আমরা অভিযোগ দেইনি।তাছাড়া সুপারের করা নানা অনিয়ম যেন নিয়মিত কাজ বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এর আগে সুপার মোবাশ্বের আহম্মেদ সরকারী নিয়ম কানুন না মেনে শহিদ মিনারে জুতা পায়ে উঠে বই বিতরণ করেছিলেন যা ভাষা শহিদদের অসম্মান করা হয়েছে। বিষয়টি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় অনলাইন ও পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিলো।
মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগে ফুফে উঠেছে অভিভাবক,ছাত্রছাত্রী ও এলাকার সচেতন মহল।সকলের দাবি প্রতিষ্ঠানের সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখতে অভিযোগ গুলো সুষ্ঠু তদন্তকরা দরকার।
মাদ্রাসা সুপার মোবাশ্বের আহম্মেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগগুলো মিথ্যে দাবি করে বলেন আমার বিরুদ্ধে এগুলো ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।আর নিয়োগ গুলো সব সঠিক প্রক্রিয়ায় হয়েছে।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল মান্নান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ইতিমধ্যে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে বিষয়টি তদন্তের জন্য বলা হয়েছে।