ছাগল চুরির অপবাদ দিয়ে শিশুকে সিঁড়িতে বেঁধে নির্যাতন

ফরহাদ হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতায় ছাগল চুরির বদনাম দিয়ে লিয়ন হাসান (১০) নামের এক মাদ্রাসাছাত্রকে সিঁড়িতে বেধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় ওই মাদ্রাসাছাত্রকে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন পরিবারের লোকজন।

আহত ওই মাদ্রাসাছাত্র বড়খাতা ইউনিয়নের পাইকারটারী এলাকার আবুল হোসেনের পুত্র এবং পাইকারটারী হাফিজিয়া মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র।

জানা গেছে গত ৯ এপ্রিল সকালে পাইকারটারী স্কুল সংলগ্ন মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে সাইকেল থামিয়ে শিশু লিয়নকে চর-থাপ্পড় মারতে শুরু করেন পাইকারটারী এলাকার রোস্তম আলীর ছেলে সারোয়ার হোসেন। পরে তাকে টেনে হিচড়ে সারোয়ার হোসেনের নবনির্মিত বাড়ির সিঁড়িতে বেঁধে মারধর করেন।

এসময় এলাকার লোকজন এবং শিশু লিয়নের বাবা ও বড়ভাই তাকে ছাড়িয়ে আনতে গেলে তাদেরকেও হুমকি ধামকি দিয়ে তাড়িয়ে দেন সারোয়ার হোসেন। পরে বড়খাতা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য হামিদা বেগমের স্বামী হাতেম আলী ও ইউপি সদস্য আজিবর রহমান জাদুর হস্তক্ষেপে শিশুটিকে ছাড়িয়ে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

শিশু লিয়নের বাবা আবুল হোসেন বলেন, আমি গরীব মানুষ। আমার মেজো ছেলে অপরাধ করছে, তাকে ধরতে না পেরে সারোয়ার আমার ছোট ছেলেকে দড়ি দিয়ে সিঁড়িতে বেঁধে মারছে, মাটিতে ফেলে রোজাদার ছেলেটাকে বুকে পা দিয়ে চেপে ধরছে। আমি প্রশাসনের কাছে এইরকম ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

বড়খাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হেনা মোস্তফা জামাল সোহেল বলেন, বিষয়টি সেদিনই মিমাংসা করার চেষ্টা করেছি।

থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্তে আসার পরে হাতীবান্ধা থানার অফিসার ইনচার্জ এরশাদুল আলমের কাছে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, এপর্যন্ত তিনি এই ঘটনার কোন তথ্য পাননি।

এফ.আর/রংপুর টাইমস